ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সৌদিতে হুথি হামলার পর দেশে ফিরলেন ৩৩ ওমরাহযাত্রী

সৌদিতে হুথি হামলার পর দেশে ফিরলেন ৩৩ ওমরাহযাত্রী
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে হুথিদের হামলার পর আটকে পড়া বাংলাদেশি ওমরাহ কাফেলার ৩৩ সদস্য দেশে ফিরেছেন। তবে একই কাফেলার আরও সাতজন এখনো সৌদি আরবে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। হামলায় এক বাংলাদেশি আলেমের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার পর নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ ওঠা আরেক আলেমের সন্ধান দাবি করেছেন দেশে ফেরা ওমরাহযাত্রীরা।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ৩৩ ওমরাহযাত্রী। সেখানে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তাঁদের অভ্যর্থনা জানান।

ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এসব ওমরাহযাত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ও সৌদি আরব সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।

গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয় বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ৪৫ সদস্যের একটি ওমরাহ কাফেলা।

ওই হামলায় নিহত হন কাফেলার সদস্য মুফতি মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। তিনি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাসিন্দা এবং ঢাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন।

হামলার পর কাফেলার আহত সদস্যদের চিকিৎসা এবং নিরাপদে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সর্বশেষ ৩৩ জন ফিরলেও আরও সাতজন রিয়াদে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে নিহত মুফতি নাসরুল্লাহ বদরপুরির মরদেহ সৌদি আরবের জান্নাতুল বাকিতে দাফনের বিষয়ে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নিহত আলেমের পরিবারের স্থায়ী আবাসন ও সন্তানদের শিক্ষার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী। পাশাপাশি পরিবারটিকে ব্যক্তিগতভাবে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তাও দিয়েছেন তিনি।

এদিকে হামলার পর ওমরাহ কাফেলার আরেক সদস্য মুফতি মুহাম্মদ আলী কাসেমীকে ঘিরে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার পরপরই ফেসবুক লাইভে ঘটনার বিবরণ দিয়েছিলেন তিনি। পরে মক্কার একটি হোটেল থেকে গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয়ধারী ব্যক্তিরা তাঁকে নিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।

দেশে ফেরা ওমরাহযাত্রীদের দাবি, এরপর থেকে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

তবে তাঁকে কারা নিয়ে গেছেন, তিনি কোথায় রয়েছেন কিংবা কোনো আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আছেন কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ এই আলেমের সন্ধান ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কাফেলার সদস্যরা।

এদিকে দেশে ফেরা ওমরাহযাত্রীদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান ধর্মমন্ত্রীর একান্ত সচিব ছাদেক আহমদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হজ পরিচালক মো. লোকমান হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুফতি আ ফ ম আকরাম হোসাইন, মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, মাওলানা সানাউল্লাহ খান, হাফেজ মাওলানা তোফায়েল আহমদ ও মাওলানা গাজী আহমদ আব্দুল্লাহ মুসাসহ অন্যরা।

ধর্মমন্ত্রীর একান্ত সচিব জানান, সৌদি আরব থেকে ফেরা ওমরাহযাত্রীদের দেখাশোনার দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী তাঁরা বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছেন।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ধর্মমন্ত্রীর উদ্যোগে যাত্রীদের জন্য রাতে খাবারের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি বিমানবন্দর থেকে তাঁদের নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

তবে ৪৫ সদস্যের কাফেলায় ৩৩ জন দেশে ফেরা, সাতজন চিকিৎসাধীন এবং একজন নিহত হওয়ার পর বাকি চারজনের অবস্থান বা অবস্থা সম্পর্কে প্রদত্ত প্রতিবেদনে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই।

সৌদি আরবে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা, কাফেলার অন্য সদস্যদের অবস্থান পরিষ্কার করা এবং মুফতি মুহাম্মদ আলী কাসেমীর সন্ধান বের করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগ : সৌদি আরব রিয়াদ বিমানবন্দর হুথি হামলা

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


সৌদিতে হুথি হামলার পর দেশে ফিরলেন ৩৩ ওমরাহযাত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে হুথিদের হামলার পর আটকে পড়া বাংলাদেশি ওমরাহ কাফেলার ৩৩ সদস্য দেশে ফিরেছেন। তবে একই কাফেলার আরও সাতজন এখনো সৌদি আরবে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। হামলায় এক বাংলাদেশি আলেমের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার পর নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ ওঠা আরেক আলেমের সন্ধান দাবি করেছেন দেশে ফেরা ওমরাহযাত্রীরা।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ৩৩ ওমরাহযাত্রী। সেখানে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তাঁদের অভ্যর্থনা জানান।

ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এসব ওমরাহযাত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ও সৌদি আরব সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।

গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয় বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ৪৫ সদস্যের একটি ওমরাহ কাফেলা।

ওই হামলায় নিহত হন কাফেলার সদস্য মুফতি মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। তিনি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাসিন্দা এবং ঢাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন।

হামলার পর কাফেলার আহত সদস্যদের চিকিৎসা এবং নিরাপদে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সর্বশেষ ৩৩ জন ফিরলেও আরও সাতজন রিয়াদে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে নিহত মুফতি নাসরুল্লাহ বদরপুরির মরদেহ সৌদি আরবের জান্নাতুল বাকিতে দাফনের বিষয়ে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নিহত আলেমের পরিবারের স্থায়ী আবাসন ও সন্তানদের শিক্ষার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী। পাশাপাশি পরিবারটিকে ব্যক্তিগতভাবে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তাও দিয়েছেন তিনি।

এদিকে হামলার পর ওমরাহ কাফেলার আরেক সদস্য মুফতি মুহাম্মদ আলী কাসেমীকে ঘিরে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার পরপরই ফেসবুক লাইভে ঘটনার বিবরণ দিয়েছিলেন তিনি। পরে মক্কার একটি হোটেল থেকে গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয়ধারী ব্যক্তিরা তাঁকে নিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।

দেশে ফেরা ওমরাহযাত্রীদের দাবি, এরপর থেকে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

তবে তাঁকে কারা নিয়ে গেছেন, তিনি কোথায় রয়েছেন কিংবা কোনো আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আছেন কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ এই আলেমের সন্ধান ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কাফেলার সদস্যরা।

এদিকে দেশে ফেরা ওমরাহযাত্রীদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান ধর্মমন্ত্রীর একান্ত সচিব ছাদেক আহমদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হজ পরিচালক মো. লোকমান হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুফতি আ ফ ম আকরাম হোসাইন, মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, মাওলানা সানাউল্লাহ খান, হাফেজ মাওলানা তোফায়েল আহমদ ও মাওলানা গাজী আহমদ আব্দুল্লাহ মুসাসহ অন্যরা।

ধর্মমন্ত্রীর একান্ত সচিব জানান, সৌদি আরব থেকে ফেরা ওমরাহযাত্রীদের দেখাশোনার দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী তাঁরা বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছেন।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ধর্মমন্ত্রীর উদ্যোগে যাত্রীদের জন্য রাতে খাবারের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি বিমানবন্দর থেকে তাঁদের নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

তবে ৪৫ সদস্যের কাফেলায় ৩৩ জন দেশে ফেরা, সাতজন চিকিৎসাধীন এবং একজন নিহত হওয়ার পর বাকি চারজনের অবস্থান বা অবস্থা সম্পর্কে প্রদত্ত প্রতিবেদনে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই।

সৌদি আরবে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা, কাফেলার অন্য সদস্যদের অবস্থান পরিষ্কার করা এবং মুফতি মুহাম্মদ আলী কাসেমীর সন্ধান বের করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি অব্যাহত রয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ