ধর্মীয় পরিচয় কিংবা রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের সব মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেছেন, জনগণের সেবা করাই জনপ্রতিনিধিদের প্রধান দায়িত্ব। নিজেদের মধ্যে বিভেদ ও দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়লে জনগণ, রাজনৈতিক দল এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার ক্ষতি হবে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) মানিকগঞ্জের সিংগাইর, হরিরামপুর, শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জানান।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব শুধু নির্দিষ্ট কোনো দল বা গোষ্ঠীর জন্য কাজ করা নয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার প্রত্যাশা পূরণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এ জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি।
দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা ও সমস্যার সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার কথাও তুলে ধরেন আফরোজা খানম।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজে বিভিন্ন জেলা পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকায় তাঁদের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মানিকগঞ্জের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের ভালোবাসা ও দলীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় তিনি বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছেন। জনগণের সেই আস্থা ও ভালোবাসার মর্যাদা রক্ষা করে নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের অঙ্গীকার করেন তিনি।
বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চায় উল্লেখ করে আফরোজা খানম বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় ভিন্ন হলেও সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
মানিকগঞ্জে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশংসা করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, জেলার বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোতে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও সহযোগিতা পারস্পরিক সম্প্রীতির পরিচয় বহন করে।
এই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সৌহার্দ্যের বন্ধন ভবিষ্যতেও অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানান তিনি।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সামনে ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটারদের যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মতপার্থক্য তৈরি হলেও তা যেন ব্যক্তিগত বিরোধ বা সামাজিক বিভেদে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন আফরোজা খানম। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
এদিকে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে স্থানীয় আয়োজকেরা এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়নসংক্রান্ত দাবি খাদ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
মন্ত্রী এসব দাবি শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দেন।
পরিদর্শনকালে তিনি পূজার সার্বিক আয়োজন এবং স্থানীয় মানুষের খোঁজখবর নেন। ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বানও জানান খাদ্যমন্ত্রী।
মন্তব্যসমূহ