ঢাকা    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

অবৈধ অভিবাসীদের সময়সীমা শেষ, দক্ষিণ আফ্রিকায় বিক্ষোভ-সহিংসতা

অবৈধ অভিবাসীদের সময়সীমা শেষ, দক্ষিণ আফ্রিকায় বিক্ষোভ-সহিংসতা
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

অবৈধ অভিবাসীদের দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়ার জন্য বেঁধে দেওয়া সময়সীমার শেষ দিনে দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেছেন অভিবাসীবিরোধী আন্দোলনের সমর্থকেরা। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এসব বিক্ষোভে অনেককে জাতীয় পতাকা গায়ে জড়াতে দেখা যায়। কারও কারও হাতে কাঠের লাঠিসহ বিভিন্ন বস্তু ছিল।

সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন দেশের বহু নাগরিক দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে গেছেন। কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনা ও বিদেশিবিরোধী সহিংসতার কারণে নতুন হামলার আশঙ্কায় অনেক এলাকায় দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়। নিরাপত্তার কারণে কাজে যাননি বহু বিদেশি শ্রমিকও।

সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া হাজারো বিদেশি নাগরিক বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তিতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।

অভিবাসীবিরোধী আন্দোলনের নেতারা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে তারা বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন। বন্দরনগরী ডারবানে ‘মার্চ অ্যান্ড মার্চ’ সংগঠনের নেতা জাসিন্তা নগোবেসে বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের সম্পদ ব্যবহার করে সব অবৈধ অভিবাসীকে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বের করে দেওয়া উচিত।

ডারবানের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৩১ বছর বয়সী সিলিনডিলে খাবা বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার অনেক মানুষ কাজ পাচ্ছেন না। তার দাবি, অবৈধ বিদেশিরা স্থানীয়দের চাকরির সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছেন।

আগামী নভেম্বরের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে কিছু রাজনীতিক ভোটের হিসাব মাথায় রেখে বিদেশিবিদ্বেষ উসকে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিবাসীরা এই সময়সীমাকে নিজেদের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছেন।

বিক্ষোভের অনেক অংশ শান্তিপূর্ণ হলেও বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, লুটপাটের অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় বা মামলার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

জোহানেসবার্গের উত্তরের উপশহর থেম্বিসায় দাঙ্গাকারীরা পুলিশ ও সন্দেহভাজন অভিবাসীদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়েছে। শহরের কেন্দ্রীয় ব্যবসা এলাকার কাছাকাছি কয়েকটি স্থানে গুলির শব্দও শোনা গেছে।

জাতীয় দৈনিক ডেইলি ম্যাভেরিক জানিয়েছে, জোহানেসবার্গের পূর্বাঞ্চলের বেনোনিতে প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ যান মোতায়েন করা হয়। পরে পুলিশ গুলি ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।

জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এসএবিসির খবরে বলা হয়েছে, সোয়েটো এলাকায় বিক্ষোভকারীরা বিদেশি নাগরিকদের অস্থায়ী বসতিতে লুটপাট চালিয়েছে। এছাড়া ডারবানের কাছে পিটারম্যারিটজবার্গে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডারবান ও জোহানেসবার্গে অনেক বাড়ির মালিক হামলার আশঙ্কায় বিদেশি ভাড়াটিয়াদের বাসা ছাড়তে বাধ্য করেছেন। ডারবানে প্রায় ১০০ কঙ্গোর নাগরিক রাস্তায় রাত কাটিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের অভিযোগ, তাদের জোর করে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

২০০৮ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় মাঝেমধ্যে অভিবাসীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব হামলায় বৈধ ও অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে অনেক সময় কোনো পার্থক্য করা হয় না। তবে ‘মার্চ অ্যান্ড মার্চ’ সংগঠনের দাবি, সাধারণ মানুষের হঠাৎ সহিংস আচরণের দায় তাদের নয়।

এই বিক্ষোভে মূলত দরিদ্র ও বেকার দক্ষিণ আফ্রিকানদের অংশগ্রহণ বেশি দেখা গেছে। তারা কর্মসংস্থান সংকট ও অর্থনৈতিক সমস্যার জন্য বিদেশিদের দায়ী করছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাজার হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সমালোচকদের অভিযোগ, অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ যথেষ্ট কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দক্ষিণ আফ্রিকার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানবাধিকার রক্ষাকারী দেশ হিসেবে নেলসন ম্যান্ডেলার সময় যে সুনাম তৈরি হয়েছিল, তা নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে।

অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চাকরি দখল, অপরাধ বৃদ্ধি এবং সরকারি সেবার ওপর চাপ তৈরির অভিযোগ তুলছেন বিক্ষোভকারীরা। তবে সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এসব অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।

বর্ণবাদ নীতির অবসানের তিন দশক পরও দক্ষিণ আফ্রিকায় বড় ধরনের বৈষম্য রয়ে গেছে। দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ বেকার। তারপরও আফ্রিকার সবচেয়ে বড় অর্থনীতি হওয়ায় কাজের খোঁজে প্রতিবছর বহু মানুষ দক্ষিণ আফ্রিকায় যান।

দক্ষিণ আফ্রিকার পরিসংখ্যান সংস্থা স্ট্যাটসএসএর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ৩০ লাখ অভিবাসী রয়েছেন। এটি মোট জনসংখ্যার প্রায় চার শতাংশ। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এই হার খুব বেশি নয়।

পুলিশিং বিভাগের উপ-জাতীয় কমিশনার তেবেলো মোসিকিলি জানিয়েছেন, মার্চ থেকে বিদেশিবিরোধী স্বঘোষিত রক্ষীবাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ১০৩টি ফৌজদারি মামলা হয়েছে।

সহিংসতার নিন্দা জানালেও কিছু রাজনীতিক বিক্ষোভকারীদের উদ্বেগকে সমর্থন করেছেন। প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এক বিবৃতিতে বলেন, অবৈধ অভিবাসন নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষের উদ্বেগ বাস্তব এবং তাদের কথা শোনা উচিত। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বিক্ষোভের অধিকার কাউকে ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া, ভাঙচুর বা সহিংসতার অনুমতি দেয় না।

দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তারা বলছেন, অভিবাসন ইস্যুতে পশ্চিমা অনেক দেশও একই ধরনের উত্তেজনার মুখে পড়ছে। বিভাজনমূলক রাজনীতি ও ভুল তথ্যের প্রচার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগ : দক্ষিণ আফ্রিকা রয়টার্স অবৈধ অভিবাসন

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


অবৈধ অভিবাসীদের সময়সীমা শেষ, দক্ষিণ আফ্রিকায় বিক্ষোভ-সহিংসতা

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image

অবৈধ অভিবাসীদের দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়ার জন্য বেঁধে দেওয়া সময়সীমার শেষ দিনে দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেছেন অভিবাসীবিরোধী আন্দোলনের সমর্থকেরা। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এসব বিক্ষোভে অনেককে জাতীয় পতাকা গায়ে জড়াতে দেখা যায়। কারও কারও হাতে কাঠের লাঠিসহ বিভিন্ন বস্তু ছিল।

সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন দেশের বহু নাগরিক দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে গেছেন। কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনা ও বিদেশিবিরোধী সহিংসতার কারণে নতুন হামলার আশঙ্কায় অনেক এলাকায় দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়। নিরাপত্তার কারণে কাজে যাননি বহু বিদেশি শ্রমিকও।

সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া হাজারো বিদেশি নাগরিক বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তিতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।

অভিবাসীবিরোধী আন্দোলনের নেতারা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে তারা বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন। বন্দরনগরী ডারবানে ‘মার্চ অ্যান্ড মার্চ’ সংগঠনের নেতা জাসিন্তা নগোবেসে বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের সম্পদ ব্যবহার করে সব অবৈধ অভিবাসীকে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বের করে দেওয়া উচিত।

ডারবানের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৩১ বছর বয়সী সিলিনডিলে খাবা বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার অনেক মানুষ কাজ পাচ্ছেন না। তার দাবি, অবৈধ বিদেশিরা স্থানীয়দের চাকরির সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছেন।

আগামী নভেম্বরের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে কিছু রাজনীতিক ভোটের হিসাব মাথায় রেখে বিদেশিবিদ্বেষ উসকে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিবাসীরা এই সময়সীমাকে নিজেদের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছেন।

বিক্ষোভের অনেক অংশ শান্তিপূর্ণ হলেও বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, লুটপাটের অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় বা মামলার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

জোহানেসবার্গের উত্তরের উপশহর থেম্বিসায় দাঙ্গাকারীরা পুলিশ ও সন্দেহভাজন অভিবাসীদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়েছে। শহরের কেন্দ্রীয় ব্যবসা এলাকার কাছাকাছি কয়েকটি স্থানে গুলির শব্দও শোনা গেছে।

জাতীয় দৈনিক ডেইলি ম্যাভেরিক জানিয়েছে, জোহানেসবার্গের পূর্বাঞ্চলের বেনোনিতে প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ যান মোতায়েন করা হয়। পরে পুলিশ গুলি ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।

জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এসএবিসির খবরে বলা হয়েছে, সোয়েটো এলাকায় বিক্ষোভকারীরা বিদেশি নাগরিকদের অস্থায়ী বসতিতে লুটপাট চালিয়েছে। এছাড়া ডারবানের কাছে পিটারম্যারিটজবার্গে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডারবান ও জোহানেসবার্গে অনেক বাড়ির মালিক হামলার আশঙ্কায় বিদেশি ভাড়াটিয়াদের বাসা ছাড়তে বাধ্য করেছেন। ডারবানে প্রায় ১০০ কঙ্গোর নাগরিক রাস্তায় রাত কাটিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের অভিযোগ, তাদের জোর করে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

২০০৮ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় মাঝেমধ্যে অভিবাসীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব হামলায় বৈধ ও অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে অনেক সময় কোনো পার্থক্য করা হয় না। তবে ‘মার্চ অ্যান্ড মার্চ’ সংগঠনের দাবি, সাধারণ মানুষের হঠাৎ সহিংস আচরণের দায় তাদের নয়।

এই বিক্ষোভে মূলত দরিদ্র ও বেকার দক্ষিণ আফ্রিকানদের অংশগ্রহণ বেশি দেখা গেছে। তারা কর্মসংস্থান সংকট ও অর্থনৈতিক সমস্যার জন্য বিদেশিদের দায়ী করছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাজার হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সমালোচকদের অভিযোগ, অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ যথেষ্ট কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দক্ষিণ আফ্রিকার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানবাধিকার রক্ষাকারী দেশ হিসেবে নেলসন ম্যান্ডেলার সময় যে সুনাম তৈরি হয়েছিল, তা নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে।

অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চাকরি দখল, অপরাধ বৃদ্ধি এবং সরকারি সেবার ওপর চাপ তৈরির অভিযোগ তুলছেন বিক্ষোভকারীরা। তবে সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এসব অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।

বর্ণবাদ নীতির অবসানের তিন দশক পরও দক্ষিণ আফ্রিকায় বড় ধরনের বৈষম্য রয়ে গেছে। দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ বেকার। তারপরও আফ্রিকার সবচেয়ে বড় অর্থনীতি হওয়ায় কাজের খোঁজে প্রতিবছর বহু মানুষ দক্ষিণ আফ্রিকায় যান।

দক্ষিণ আফ্রিকার পরিসংখ্যান সংস্থা স্ট্যাটসএসএর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ৩০ লাখ অভিবাসী রয়েছেন। এটি মোট জনসংখ্যার প্রায় চার শতাংশ। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এই হার খুব বেশি নয়।

পুলিশিং বিভাগের উপ-জাতীয় কমিশনার তেবেলো মোসিকিলি জানিয়েছেন, মার্চ থেকে বিদেশিবিরোধী স্বঘোষিত রক্ষীবাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ১০৩টি ফৌজদারি মামলা হয়েছে।

সহিংসতার নিন্দা জানালেও কিছু রাজনীতিক বিক্ষোভকারীদের উদ্বেগকে সমর্থন করেছেন। প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এক বিবৃতিতে বলেন, অবৈধ অভিবাসন নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষের উদ্বেগ বাস্তব এবং তাদের কথা শোনা উচিত। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বিক্ষোভের অধিকার কাউকে ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া, ভাঙচুর বা সহিংসতার অনুমতি দেয় না।

দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তারা বলছেন, অভিবাসন ইস্যুতে পশ্চিমা অনেক দেশও একই ধরনের উত্তেজনার মুখে পড়ছে। বিভাজনমূলক রাজনীতি ও ভুল তথ্যের প্রচার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সূত্র: রয়টার্স


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ