ঢাকা    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সেনাবাহিনীর প্রকৃত শক্তি শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নৈতিকতা ও জনগণের আস্থা: প্রধানমন্ত্রী

সেনাবাহিনীর প্রকৃত শক্তি শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নৈতিকতা ও জনগণের আস্থা: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

সেনাবাহিনীর প্রকৃত সক্ষমতা কেবল অস্ত্র, গোলাবারুদ কিংবা লোকবলের ওপর নির্ভর করে না; বরং শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, পেশাদারি প্রশিক্ষণ এবং সর্বোপরি জনগণের আস্থার ওপরই একটি বাহিনীর মূল ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ অটুট রাখতে সশস্ত্র বাহিনীকে সময়োপযোগী, প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ ও অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার সরকারি উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে সাভার সেনানিবাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি বাহিনীর গৌরবময় সাতটি ইউনিটকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ বা জাতীয় পতাকা প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে যুদ্ধের কৌশল ও নিরাপত্তা ধারণা দ্রুত বদলাচ্ছে। প্রথাগত স্থল, আকাশ ও নৌপথের বাইরে এখন সাইবার স্পেস, মহাকাশ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ড্রোন প্রযুক্তি এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধকৌশল জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাস্তবতায় প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের পাশাপাশি দেশীয়ভাবে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের লক্ষ্যে নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলায় সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে স্মরণ করিয়ে দেন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কার্যকর হলেও তা কখনো মানুষের বিকল্প হতে পারে না; তাই সেনাসদস্যদের নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উৎকর্ষ অর্জন অত্যন্ত জরুরি।

মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর গণহত্যার বিরুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সদস্যরাই প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক ত্যাগের ধারাবাহিকতায় আজকের সেনাবাহিনীকে দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জাতীয় সংকটে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। একই সঙ্গে তিনি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর মধ্যে ত্রি-মাত্রিক সমন্বয় বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণে গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে জাতীয় পে স্কেলে সেনাসদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত সদস্যদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুল প্রতীক্ষিত ‘ওয়ান র‍্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সাভারে আয়োজিত এই মর্যাদাপূর্ণ কুচকাওয়াজে সেনাবাহিনীর ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকে (পিজিআর) আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে এই মর্যাদার সম্মান অক্ষুণ্ণ রেখে নিষ্ঠার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর প্রধানগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, ঊর্ধ্বতন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


সেনাবাহিনীর প্রকৃত শক্তি শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নৈতিকতা ও জনগণের আস্থা: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সেনাবাহিনীর প্রকৃত সক্ষমতা কেবল অস্ত্র, গোলাবারুদ কিংবা লোকবলের ওপর নির্ভর করে না; বরং শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, পেশাদারি প্রশিক্ষণ এবং সর্বোপরি জনগণের আস্থার ওপরই একটি বাহিনীর মূল ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ অটুট রাখতে সশস্ত্র বাহিনীকে সময়োপযোগী, প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ ও অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার সরকারি উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে সাভার সেনানিবাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি বাহিনীর গৌরবময় সাতটি ইউনিটকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ বা জাতীয় পতাকা প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে যুদ্ধের কৌশল ও নিরাপত্তা ধারণা দ্রুত বদলাচ্ছে। প্রথাগত স্থল, আকাশ ও নৌপথের বাইরে এখন সাইবার স্পেস, মহাকাশ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ড্রোন প্রযুক্তি এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধকৌশল জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাস্তবতায় প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের পাশাপাশি দেশীয়ভাবে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের লক্ষ্যে নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলায় সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে স্মরণ করিয়ে দেন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কার্যকর হলেও তা কখনো মানুষের বিকল্প হতে পারে না; তাই সেনাসদস্যদের নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উৎকর্ষ অর্জন অত্যন্ত জরুরি।

মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর গণহত্যার বিরুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সদস্যরাই প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক ত্যাগের ধারাবাহিকতায় আজকের সেনাবাহিনীকে দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জাতীয় সংকটে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। একই সঙ্গে তিনি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর মধ্যে ত্রি-মাত্রিক সমন্বয় বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণে গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে জাতীয় পে স্কেলে সেনাসদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত সদস্যদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুল প্রতীক্ষিত ‘ওয়ান র‍্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সাভারে আয়োজিত এই মর্যাদাপূর্ণ কুচকাওয়াজে সেনাবাহিনীর ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকে (পিজিআর) আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে এই মর্যাদার সম্মান অক্ষুণ্ণ রেখে নিষ্ঠার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর প্রধানগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, ঊর্ধ্বতন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ