চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানচেস্টার সিটির মাঠে ৪-২ গোলের জয় তুলে নিয়েছে প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে বুধবারের ম্যাচে প্রথমার্ধেই তিন গোল করে এগিয়ে যায় ফরাসি ক্লাবটি। বিরতির পর দুই গোল করে লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি সিটি।
প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে স্বাধীন কমিশনের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর নিজেদের মাঠে এটিই ছিল সিটির প্রথম ম্যাচ। এমন পরিস্থিতিতে পিএসজির কাছে হার ইংলিশ ক্লাবটির জন্য হতাশা আরও বাড়িয়েছে।
ম্যাচের প্রথম ৩৫ মিনিটের মধ্যেই তিনবার সিটির জালে বল পাঠায় পিএসজি। গোল করেন দেজিরে দুয়ে, উসমান দেম্বেলে ও ভিতিনিয়া। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলে স্বাগতিকদের চাপে রাখে ফরাসি দলটি।
প্রথম গোলটি আসে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ থেকে। বক্সের বাইরে থেকে দুয়ের নেওয়া শটে কাছের পোস্ট সামলাতে ব্যর্থ হন পিএসজির সাবেক গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। এর দুই মিনিট পর দুয়ে ও দেম্বেলের দারুণ সমন্বয়ে দ্বিতীয় গোলটি পায় পিএসজি। দুজনের ওয়ান-টু পাসের পর দূরের পোস্টে হেড করে বল জালে পাঠান দেম্বেলে।
এরপর আচরাফ হাকিমির একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে বিরতির আগেই বক্সের প্রান্ত থেকে জোরালো শটে দলের তৃতীয় গোলটি করেন ভিতিনিয়া।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ম্যানচেস্টার সিটি। বিরতির পর তিনটি পরিবর্তন আনেন কোচ এনজো মারেস্কা। এরপরও গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন আন্তোয়ান সেমেনিও ও এনজো ফার্নান্দেজ।
পরে ইলিমান এনদিয়ায়ের ক্রস থেকে হেড করে ব্যবধান কমান আর্লিং হালান্ড। তবে সিটির আশা আবারও ধাক্কা খায়, যখন মাগনেস আকলিউশের শট ঠেকাতে গিয়ে বলের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি দোন্নারুম্মা। গোলরক্ষকের হাতে লেগে উঁচুতে উঠে যাওয়া বল ঘুরে জালে প্রবেশ করে। ফলে পিএসজি আবারও তিন গোলের ব্যবধান ফিরে পায়।
সিটির হয়ে লড়াই চালিয়ে যান হালান্ড। নিজের দ্বিতীয় গোলের আগে তিনি ক্রসবারে বল লাগান। পরে নরওয়েজীয় এই স্ট্রাইকার আরেকটি গোল করলেও ব্যবধান কমানোর জন্য সেটি যথেষ্ট ছিল না। নিজেদের গোললাইন থেকে দুর্দান্ত ক্লিয়ারেন্সে সিটির আরেকটি প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন নুনো মেন্দেস।
ম্যাচের শেষ দিকে ফেররান তোরেসের পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন দোন্নারুম্মা। এতে পিএসজির পঞ্চম গোলের সম্ভাবনা নষ্ট হয় এবং ৪-২ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ফরাসি ক্লাবটি।
মন্তব্যসমূহ