ম্যানচেস্টার সিটির পর বার্সেলোনা। ইউরোপের দুই শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে টানা দুই ম্যাচে ৪-২ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। এবার ফরাসি ক্লাবটিকে বিশ্বের সেরা দল হিসেবে দেখছেন মরক্কোর তারকা ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমি।মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের মাঠ পার্ক দে প্রাঁসে বার্সেলোনাকে ৪-২ গোলে হারায় পিএসজি। চলতি মৌসুমে অপরাজিত থাকা স্প্যানিশ ক্লাবটির বিপক্ষে এই জয় লুইস এনরিকের দলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।ম্যাচ শেষে সিবিএস স্পোর্টসকে হাকিমি বলেন, ‘এমন একটি দলের বিপক্ষে খেললে আপনি তাদের দেখিয়ে দিতে চাইবেন, আমরাই চ্যাম্পিয়ন। আমরা আরও জিততে চাই। আমরা দেখাতে চাই, আমরাও বিশ্বের অন্যতম সেরা দল, এমনকি এই মুহূর্তে হয়তো সেরা দল।’বার্সেলোনার বিপক্ষে জয়টি যে সহজ ছিল না, সেটিও স্বীকার করেছেন মরক্কোর এই ফুটবলার।ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফুট মারকাতোকে তিনি বলেন, ‘আমরা জানতাম, ম্যাচটি খুব কঠিন হবে। আমরা বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি দলের মুখোমুখি হয়েছিলাম, যারা এই মৌসুমে এখনো হারেনি। কিন্তু আমাদের দলটি অসাধারণ।’ম্যাচে বারবার পরিস্থিতি বদলেছে। পিএসজির এগিয়ে যাওয়ার পর সমতায় ফিরেছে বার্সেলোনা। শেষ পর্যন্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করার দক্ষতায় জয় নিশ্চিত করে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা।দলের হয়ে গোল করেন দেজিরে দুয়ে, লুকাস এরনান্দেজ, ভিতিনিয়া ও ফাবিয়ান রুইস। শেষ দিকে রুইসের গোলে সহায়তাও করেন হাকিমি।হাকিমির মতে, কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজেদের খেলার ধরন ও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে পারাই পিএসজির বড় শক্তি। প্রতিপক্ষ বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর পরও তাঁর দল জয় ছিনিয়ে নিতে পেরেছে।এর পেছনে কোচ লুইস এনরিকের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন এই ডিফেন্ডার। তিনি জানান, খেলোয়াড়দের মধ্যে জয়ের ক্ষুধা, শৃঙ্খলা ও সঠিক মানসিকতা ধরে রাখতে প্রতিদিন কাজ করছেন এনরিকে।বার্সেলোনার বিপক্ষে এই জয়ের আগে ম্যানচেস্টার সিটিকেও একই ব্যবধানে হারিয়েছিল পিএসজি। গত ১৪ অক্টোবর ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ৪-২ গোলের জয় পেয়েছিল ফরাসি ক্লাবটি।ইউরোপের দুই বড় দলের বিপক্ষে টানা এমন সাফল্যে পিএসজির সামর্থ্য নিয়ে হাকিমির বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে। তবে কেবল বড় ম্যাচ জেতাতেই সন্তুষ্ট থাকতে চান না তিনি।চলতি মৌসুমেও চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জয়কে দলের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন হাকিমি। তাঁর আশা, সামনের ম্যাচগুলোতেও একই মানসিকতা ও ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবে পিএসজি।