ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

প্রবাসী কর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

প্রবাসী কর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, নিয়োগে অনিয়ম এবং প্রতারণা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে প্রবাসী কর্মীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (আরএমএমআরইউ) ৩০ বছর পূর্তি এবং ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬’-এর পুরস্কার প্রদান ও সমাপনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিদেশে চাকরির আশায় অনেক বাংলাদেশি জমি বিক্রি করেন, ঋণ গ্রহণ করেন কিংবা পরিবারের জমানো অর্থ ব্যয় করেন। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার পর তাঁদের কেউ কেউ প্রতারণা, চুক্তি অনুযায়ী বেতন না পাওয়া এবং অনিশ্চিত কর্মসংস্থানের মতো সমস্যার সম্মুখীন হন।

এসব সমস্যা সমাধানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।

বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোর কার্যক্রম আরও শ্রমিকবান্ধব করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রত্যেক কর্মীকে বিদেশযাত্রার আগে চাকরির চুক্তি, বেতন, কর্মপরিবেশ এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি অধিকার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে হবে।

দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, তৈরি পোশাকশিল্প ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির দুটি প্রধান চালিকাশক্তি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন বলে জানান রাষ্ট্রপতি। তাঁর মতে, এই অর্থ বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

দেশের অর্থনীতিতে প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী কর্মীর অবদান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের শ্রম ও ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

প্রবাসীরা শুধু অর্থ পাঠানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নন; তাঁরা বিদেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁদের অর্জিত অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও দক্ষতাও দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি।

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ কর্মী তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, শুধু বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা বাড়ালে চলবে না। নিরাপদ অভিবাসনের পাশাপাশি উপযুক্ত চাকরি এবং প্রয়োজনীয় পেশাগত দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।

বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তথ্যপ্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, নার্সিং, স্বাস্থ্যসেবা, প্রবীণদের পরিচর্যা, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিকস প্রযুক্তি এবং আধুনিক নির্মাণ খাতে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এসব খাতের উপযোগী কর্মী তৈরিতে সরকারি ও বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, কোন দেশে কোন পেশায় কতজন কর্মী প্রয়োজন এবং তাঁদের কী ধরনের যোগ্যতা থাকা দরকার, তা বিবেচনা করে প্রশিক্ষণ ও নিয়োগ পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।

পাশাপাশি বিদেশি নিয়োগকর্তা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

নারী অভিবাসীদের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে প্রবাসীদের সঞ্চয় উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।

বিদেশ থেকে ফিরে আসা কর্মীদের পুনর্বাসন, তাঁদের দক্ষতার স্বীকৃতি, ঋণসুবিধা এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরির প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তিনি।

দেশের অভ্যন্তরীণ অভিবাসন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় গ্রাম থেকে বহু মানুষ ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরগুলোতে আসছেন।

এর ফলে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি হলেও নগর আবাসন, যানজট এবং নাগরিক সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, খরা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনেক মানুষ নিজেদের বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র যেতে বাধ্য হচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গ্রামীণ ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে কর্মসংস্থান, কারিগরি প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্রশিল্প, কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ এবং নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অভিযোজন কার্যক্রম, টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও ফলাফলভিত্তিক জাতীয় কৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।

এ প্রসঙ্গে ‘অভিবাসন দশক’ ঘোষণার প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় সরকার, বিরোধী দল এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একযোগে কাজ করার তাগিদ দেন রাষ্ট্রপতি।

ভাষণে বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের ৩৩টি দেশে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

এ ছাড়া ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি জানান, প্রবাসী কার্ড চালু, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণসুবিধা এবং বিশেষ আদালত গঠনের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে পুরস্কার পাওয়া অভিবাসীদের অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি নিরাপদ, মানবিক ও টেকসই অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আরএমএমআরইউর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো প্রতিটি ডলারের পেছনে রয়েছে তাঁদের শ্রম, ত্যাগ ও স্বপ্ন। সেই অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাঁদের অর্জিত দক্ষতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।

ট্যাগ : রাষ্ট্রপতি রেমিট্যান্স প্রবাসী কর্মী

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


প্রবাসী কর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, নিয়োগে অনিয়ম এবং প্রতারণা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে প্রবাসী কর্মীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (আরএমএমআরইউ) ৩০ বছর পূর্তি এবং ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬’-এর পুরস্কার প্রদান ও সমাপনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিদেশে চাকরির আশায় অনেক বাংলাদেশি জমি বিক্রি করেন, ঋণ গ্রহণ করেন কিংবা পরিবারের জমানো অর্থ ব্যয় করেন। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার পর তাঁদের কেউ কেউ প্রতারণা, চুক্তি অনুযায়ী বেতন না পাওয়া এবং অনিশ্চিত কর্মসংস্থানের মতো সমস্যার সম্মুখীন হন।

এসব সমস্যা সমাধানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।

বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোর কার্যক্রম আরও শ্রমিকবান্ধব করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রত্যেক কর্মীকে বিদেশযাত্রার আগে চাকরির চুক্তি, বেতন, কর্মপরিবেশ এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি অধিকার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে হবে।

দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, তৈরি পোশাকশিল্প ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির দুটি প্রধান চালিকাশক্তি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন বলে জানান রাষ্ট্রপতি। তাঁর মতে, এই অর্থ বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

দেশের অর্থনীতিতে প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী কর্মীর অবদান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের শ্রম ও ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

প্রবাসীরা শুধু অর্থ পাঠানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নন; তাঁরা বিদেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁদের অর্জিত অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও দক্ষতাও দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি।

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ কর্মী তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, শুধু বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা বাড়ালে চলবে না। নিরাপদ অভিবাসনের পাশাপাশি উপযুক্ত চাকরি এবং প্রয়োজনীয় পেশাগত দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।

বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তথ্যপ্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, নার্সিং, স্বাস্থ্যসেবা, প্রবীণদের পরিচর্যা, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিকস প্রযুক্তি এবং আধুনিক নির্মাণ খাতে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এসব খাতের উপযোগী কর্মী তৈরিতে সরকারি ও বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, কোন দেশে কোন পেশায় কতজন কর্মী প্রয়োজন এবং তাঁদের কী ধরনের যোগ্যতা থাকা দরকার, তা বিবেচনা করে প্রশিক্ষণ ও নিয়োগ পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।

পাশাপাশি বিদেশি নিয়োগকর্তা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

নারী অভিবাসীদের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে প্রবাসীদের সঞ্চয় উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।

বিদেশ থেকে ফিরে আসা কর্মীদের পুনর্বাসন, তাঁদের দক্ষতার স্বীকৃতি, ঋণসুবিধা এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরির প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তিনি।

দেশের অভ্যন্তরীণ অভিবাসন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় গ্রাম থেকে বহু মানুষ ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরগুলোতে আসছেন।

এর ফলে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি হলেও নগর আবাসন, যানজট এবং নাগরিক সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, খরা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনেক মানুষ নিজেদের বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র যেতে বাধ্য হচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গ্রামীণ ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে কর্মসংস্থান, কারিগরি প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্রশিল্প, কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ এবং নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অভিযোজন কার্যক্রম, টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও ফলাফলভিত্তিক জাতীয় কৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।

এ প্রসঙ্গে ‘অভিবাসন দশক’ ঘোষণার প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় সরকার, বিরোধী দল এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একযোগে কাজ করার তাগিদ দেন রাষ্ট্রপতি।

ভাষণে বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের ৩৩টি দেশে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

এ ছাড়া ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি জানান, প্রবাসী কার্ড চালু, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণসুবিধা এবং বিশেষ আদালত গঠনের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে পুরস্কার পাওয়া অভিবাসীদের অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি নিরাপদ, মানবিক ও টেকসই অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আরএমএমআরইউর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো প্রতিটি ডলারের পেছনে রয়েছে তাঁদের শ্রম, ত্যাগ ও স্বপ্ন। সেই অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাঁদের অর্জিত দক্ষতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ