ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

হাসিনার দুপুরে খাবার খরচ ছিল সাড়ে ১০ লাখ, তারেক রহমানের ১৫০ টাকা

চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি

হাসিনার দুপুরে খাবার খরচ ছিল সাড়ে ১০ লাখ, তারেক রহমানের ১৫০ টাকা
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে প্রতিদিন দুপুরের খাবারের জন্য সাড়ে ১০ লাখ টাকা ব্যয় হতো বলে দাবি করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মণি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বছরে এই ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৩৫ কোটি টাকা। বিপরীতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৫০ টাকায় দুপুরের খাবার খান বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে আট দিনের সফরে বরগুনায় পৌঁছে সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব মন্তব্য করেন চিফ হুইপ।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যয়সংযমের প্রশংসা করে নূরুল ইসলাম মণি জানান, কিছুদিন আগে তারেক রহমান বলেছিলেন, “দেশের একটা পয়সাও আমার হাত দিয়ে নষ্ট হবে না, আমি যতদিন আছি।”

চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জীবনযাপন অত্যন্ত সাধারণ। দুই দিন আগে তাঁর সঙ্গে ঢেঁড়স ভাজি, কুমড়া ভর্তা ও ডাল দিয়ে দুপুরের খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি।

মানুষের বাহ্যিক অবয়বের পরিবর্তে অন্তরের মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, আল্লাহ মানুষের শারীরিক গঠন, গায়ের রং কিংবা উচ্চতা দেখে বিচার করবেন না; বরং ঈমান ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে বিচার করবেন। একইভাবে তারেক রহমানের জীবনযাপন ও মানসিকতা মূল্যায়নের আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণকে বাংলাদেশের জন্য সৌভাগ্যের বিষয় হিসেবে বর্ণনা করেন চিফ হুইপ। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশ পরিচালনায় তারেক রহমানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব ও দলীয় কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়েও কথা বলেন নূরুল ইসলাম মণি।

তিনি জানান, জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ সভায় প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের কর্মীবান্ধব হওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে চিফ হুইপ বলেন, “আপনারা এমপি হয়েছেন, সম্মানিত হয়েছেন। কিন্তু আপনারা যদি কর্মীবান্ধব না হন, কর্মীদের নিয়ে যদি না চলেন, তাহলে আমি কারে নিয়ে চলব? আমার কর্মীরাই সব, ১৭ বছর যুদ্ধ করে আমাকে এখানে বসিয়েছে। আপনাদের বসাইছে, আপনারা এমপি হয়েছেন। এখন কর্মীদের দেখবে কে?”

একই সভায় চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, “কোনো চাঁদাবাজির জায়গা নেই। নো চাঁদাবাজি, নো দখল এবং নো সন্ত্রাসী। এগুলো যদি হয় তাহলে কঠোর ব্যবস্থা হবে।”

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির প্রসঙ্গেও কথা বলেন চিফ হুইপ।

তিনি জানান, মিষ্টিকে বহিষ্কার করার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ। তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ধানের শীষ, নৌকা কিংবা অন্য কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না। জনপ্রিয় ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন এবং একজন প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

দলীয় প্রতীকের কারণে স্থানীয় পর্যায়ে সম্পর্কের অবনতি ঘটে বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রতীক ছাড়া নির্বাচন হলে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে জনপ্রিয় প্রার্থীদের নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ বাড়বে বলে তাঁর অভিমত।

এমনকি বিএনপির সঙ্গে যুক্ত নন, এমন কোনো জনপ্রিয় ব্যক্তিও নির্বাচিত হলে যেন বাধার সম্মুখীন না হন, সে লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন চিফ হুইপ।

দেশের অতীত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন নূরুল ইসলাম মণি।

তিনি দাবি করেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার আগে দেশে তীব্র খাদ্যসংকট ছিল এবং না খেয়ে ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ওই সময়ে রক্ষী বাহিনী ও বাকশালের অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

চিফ হুইপের ভাষ্য অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান ক্ষমতা গ্রহণের তিন বছরের মধ্যে দেশে খাদ্যসংকট দূর করেন। বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি সেনেগালে খাদ্য ও চাল রপ্তানি করেছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

গত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতি, সমাজনীতি ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অবনতি ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন নূরুল ইসলাম মণি।

তিনি বলেন, এমন কঠিন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন এবং গণতন্ত্রের উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।

দেশের বিভিন্ন সংকটময় সময়ে বিএনপিকে দায়িত্ব নিতে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন চিফ হুইপ।

ট্যাগ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শেখ হাসিনা নূরুল ইসলাম মণি

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


হাসিনার দুপুরে খাবার খরচ ছিল সাড়ে ১০ লাখ, তারেক রহমানের ১৫০ টাকা

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে প্রতিদিন দুপুরের খাবারের জন্য সাড়ে ১০ লাখ টাকা ব্যয় হতো বলে দাবি করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মণি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বছরে এই ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৩৫ কোটি টাকা। বিপরীতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৫০ টাকায় দুপুরের খাবার খান বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে আট দিনের সফরে বরগুনায় পৌঁছে সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব মন্তব্য করেন চিফ হুইপ।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যয়সংযমের প্রশংসা করে নূরুল ইসলাম মণি জানান, কিছুদিন আগে তারেক রহমান বলেছিলেন, “দেশের একটা পয়সাও আমার হাত দিয়ে নষ্ট হবে না, আমি যতদিন আছি।”

চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জীবনযাপন অত্যন্ত সাধারণ। দুই দিন আগে তাঁর সঙ্গে ঢেঁড়স ভাজি, কুমড়া ভর্তা ও ডাল দিয়ে দুপুরের খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি।

মানুষের বাহ্যিক অবয়বের পরিবর্তে অন্তরের মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, আল্লাহ মানুষের শারীরিক গঠন, গায়ের রং কিংবা উচ্চতা দেখে বিচার করবেন না; বরং ঈমান ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে বিচার করবেন। একইভাবে তারেক রহমানের জীবনযাপন ও মানসিকতা মূল্যায়নের আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণকে বাংলাদেশের জন্য সৌভাগ্যের বিষয় হিসেবে বর্ণনা করেন চিফ হুইপ। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশ পরিচালনায় তারেক রহমানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব ও দলীয় কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়েও কথা বলেন নূরুল ইসলাম মণি।

তিনি জানান, জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ সভায় প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের কর্মীবান্ধব হওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে চিফ হুইপ বলেন, “আপনারা এমপি হয়েছেন, সম্মানিত হয়েছেন। কিন্তু আপনারা যদি কর্মীবান্ধব না হন, কর্মীদের নিয়ে যদি না চলেন, তাহলে আমি কারে নিয়ে চলব? আমার কর্মীরাই সব, ১৭ বছর যুদ্ধ করে আমাকে এখানে বসিয়েছে। আপনাদের বসাইছে, আপনারা এমপি হয়েছেন। এখন কর্মীদের দেখবে কে?”

একই সভায় চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, “কোনো চাঁদাবাজির জায়গা নেই। নো চাঁদাবাজি, নো দখল এবং নো সন্ত্রাসী। এগুলো যদি হয় তাহলে কঠোর ব্যবস্থা হবে।”

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির প্রসঙ্গেও কথা বলেন চিফ হুইপ।

তিনি জানান, মিষ্টিকে বহিষ্কার করার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ। তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ধানের শীষ, নৌকা কিংবা অন্য কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না। জনপ্রিয় ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন এবং একজন প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

দলীয় প্রতীকের কারণে স্থানীয় পর্যায়ে সম্পর্কের অবনতি ঘটে বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রতীক ছাড়া নির্বাচন হলে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে জনপ্রিয় প্রার্থীদের নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ বাড়বে বলে তাঁর অভিমত।

এমনকি বিএনপির সঙ্গে যুক্ত নন, এমন কোনো জনপ্রিয় ব্যক্তিও নির্বাচিত হলে যেন বাধার সম্মুখীন না হন, সে লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন চিফ হুইপ।

দেশের অতীত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন নূরুল ইসলাম মণি।

তিনি দাবি করেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার আগে দেশে তীব্র খাদ্যসংকট ছিল এবং না খেয়ে ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ওই সময়ে রক্ষী বাহিনী ও বাকশালের অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

চিফ হুইপের ভাষ্য অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান ক্ষমতা গ্রহণের তিন বছরের মধ্যে দেশে খাদ্যসংকট দূর করেন। বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি সেনেগালে খাদ্য ও চাল রপ্তানি করেছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

গত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতি, সমাজনীতি ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অবনতি ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন নূরুল ইসলাম মণি।

তিনি বলেন, এমন কঠিন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন এবং গণতন্ত্রের উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।

দেশের বিভিন্ন সংকটময় সময়ে বিএনপিকে দায়িত্ব নিতে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন চিফ হুইপ।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ