২০০১ সালের ভয়াবহ ভুজ ভূমিকম্প শুধু গুজরাটের পুনর্গঠনকে কঠিন করে তোলেনি, বদলে দিয়েছিল রাজ্যটির রাজনৈতিক সমীকরণও। সেই সময় বিজেপির জাতীয় পর্যায়ের সংগঠক নরেন্দ্র মোদির সামনে খুলে যায় সরকার পরিচালনার নতুন অধ্যায়। Pasted text
২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মোদি। এর আগে কোনো সরকারের প্রধান হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল না তার। তবে তার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই গুজরাট ভয়াবহ ভূমিকম্পের ক্ষত সামলাচ্ছিল। Pasted text
২০০১ সালের ২৬ জানুয়ারির ভূমিকম্পে কচ্ছসহ গুজরাটের বিস্তীর্ণ এলাকা বিধ্বস্ত হয়। হাজারো মানুষের প্রাণহানি, ধ্বংস হওয়া জনপদ এবং বিপর্যস্ত অবকাঠামোর মধ্যে পুনর্গঠন হয়ে ওঠে রাজ্যটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পরে মোদি নিজেও বলেন, ভুজের ভূমিকম্প তাকে পুনর্গঠনের কাজে অবিচল থাকার শিক্ষা দিয়েছে। Pasted text
ভুজের আগে অস্থির ছিল গুজরাটের রাজনীতি
মোদি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে গুজরাট বিজেপির ভেতরেই চলছিল নেতৃত্বের পালাবদল। ১৯৯৫ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে একই রাজনৈতিক দলের শাসনামলে চারজন ভিন্ন ব্যক্তি মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এই পালাবদল ছিল দলীয় কোন্দল ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের প্রতিফলন। Pasted text
অন্যদিকে, মোদি তখন পর্যন্ত মূলত একজন দক্ষ দলীয় সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৮৭ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর গুজরাটে দলের সাংগঠনিক ভিত শক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরে জাতীয় পর্যায়ে সংগঠনের দায়িত্বও পান। Pasted text
ভূমিকম্পের সময়ও মোদি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন না। তিনি ছিলেন বিজেপির জাতীয় পর্যায়ের সংগঠক। তবে ভূমিকম্পের পর তিনি কচ্ছ এলাকায় যান এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে তার রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। Pasted text
ভূমিকম্পের ধাক্কায় দুর্বল হয় কেশুভাই সরকার
ভূমিকম্পের পর উদ্ধার ও ত্রাণকাজ নিয়ে তৎকালীন কেশুভাই প্যাটেল সরকারের প্রশাসনিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। উদ্ধারকাজের গতি এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ব্যবহারে সমস্যার অভিযোগও সামনে আসে। Pasted text
এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিজেপির নির্বাচনী ধাক্কা। ২০০১ সালের আগস্টে সাবরমতী বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনেও বিজেপি পরাজিত হয়। রাজনৈতিক অসন্তোষ, প্রশাসনিক সমালোচনা এবং ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি মিলিয়ে কেশুভাই প্যাটেলের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। Pasted text
শেষ পর্যন্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির নেতৃত্বাধীন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব গুজরাটে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন মুখ হিসেবে বেছে নেওয়া হয় নরেন্দ্র মোদিকে। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। Pasted text
মুখ্যমন্ত্রী হয়ে প্রথম বড় পরীক্ষা
মোদি দায়িত্ব নেওয়ার পর ভুজের পুনর্গঠন তার প্রথম বড় প্রশাসনিক পরীক্ষায় পরিণত হয়। তবে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, পুনর্গঠন কার্যক্রম তার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগেই শুরু হয়েছিল। নতুন সরকার সেই কর্মসূচি পর্যালোচনা করে কাজের গতি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। Pasted text
পুনর্গঠনের আওতায় শুধু ঘরবাড়ি বা সরকারি স্থাপনা নির্মাণ নয়, মানুষের জীবিকা ফিরিয়ে আনা, স্থানীয় অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যতের দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ও গুরুত্ব পায়। Pasted text
তবে ভুজের ভূমিকম্পই যে একমাত্র কারণে মোদি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন, এমনটা বলা ঠিক হবে না। এর আগে থেকেই তিনি বিজেপির প্রভাবশালী সংগঠক ছিলেন। পাশাপাশি কেশুভাই সরকারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকট এবং ২০০২ সালের নির্বাচনের আগে দলের অবস্থান পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনও নেতৃত্ব পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল। Pasted text
২৫ বছর পরও কেন গুরুত্বপূর্ণ ভুজ?
২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার মধ্য দিয়ে মোদির রাজনৈতিক জীবনে একটি বড় পরিবর্তন আসে। দলীয় সংগঠক থেকে তিনি সরাসরি প্রশাসনের দায়িত্বে চলে আসেন। ভুজ হয়ে ওঠে সেই নতুন অধ্যায়ের প্রথম বড় কর্মক্ষেত্র। Pasted text
এরপর ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন মোদি। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর সরকারপ্রধান হিসেবে তার ২৫ বছর পূর্ণ হয়। এই দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার দিকে ফিরে তাকালে ভুজের ভূমিকম্প এবং তার পরবর্তী পুনর্গঠন পর্বটি তার রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে সামনে আসে। Pasted text
ভূমিকম্প তাকে সরাসরি ক্ষমতার শীর্ষে তুলে দেয়নি। কিন্তু একটি ভয়াবহ জাতীয় দুর্যোগ, গুজরাটের রাজনৈতিক সংকট এবং বিজেপির নেতৃত্ব পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত একসঙ্গে এমন একটি সুযোগ তৈরি করেছিল, যা শেষ পর্যন্ত ভারতের দীর্ঘতম সময়ের সরকারপ্রধানদের একজন হয়ে ওঠার পথ খুলে দেয়।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
মন্তব্যসমূহ