ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ৪৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন তিন হাজারের বেশি মানুষ। এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রোববার (২৮ জুন) দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৪৫০ জন নিহত এবং তিন হাজার ১৫০ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা জীবিতদের উদ্ধারে রোববারও প্রশিক্ষিত কুকুরের সহায়তায় অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরের কারাবালেদা শহরে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী দল এক ব্যক্তি ও তার কিশোর ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করে।
উদ্ধারের এই ঘটনায় কিছুটা আশার আলো দেখা গেলেও সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। অর্থনৈতিক সংকটে থাকা দেশটিতে এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর জীবিতদের উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমাও পেরিয়ে গেছে।
গত বুধবার সন্ধ্যায় ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভেনিজুয়েলার উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৭৭৪টি ভবন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৮৯টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি লা গুয়াইরায় স্বজনদের খোঁজে ধ্বংসস্তূপের পাশে অপেক্ষা করছেন অনেকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উদ্ধার সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় ধীরগতির এবং অপ্রতুল।
হেক্টর আগুইলেরা নামের এক বাসিন্দা বলেন, তাঁর পরিবারের চার সদস্য এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। তাঁদের বের করে আনার মতো যথেষ্ট সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দল ভেনিজুয়েলায় উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও স্বজনদের খুঁজতে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন।
কারাকাসের সান বেরনার্দিনো এলাকায় স্বেচ্ছাসেবীরা ড্রিল মেশিন দিয়ে কংক্রিট কেটে এবং হাতে হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। রাজধানীর চাকাও এলাকায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের ছবি বড় ডিজিটাল পর্দায় দেখানো হচ্ছে, যাতে তাঁদের শনাক্ত করা সহজ হয়।
ভূমিকম্পের পর লাখ লাখ মানুষ বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্যোগের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা জীবিতদের উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এরপর উদ্ধার অভিযান ধীরে ধীরে মরদেহ উদ্ধারের অভিযানে পরিণত হয়।
সূত্র: এএফপি
মন্তব্যসমূহ