ঢাকা    শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর

 চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ ও বহুমাত্রিক কৌশলগত সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ়, গভীর ও জনকল্যাণমুখী করতে পারস্পরিক যোগাযোগ, আস্থা এবং সার্বিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি দলের এই চীন সফর দুদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকায় চীনা দূতাবাস আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি দলের সফরপূর্ব এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জনপ্রশাসন উপদেষ্টা জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এটি দ্বিতীয় প্রতিনিধি দলের চীন সফর। সফরটি কেবল প্রথাগত ও আনুষ্ঠানিক বৈঠকের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে চীনের সরকারি কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা, গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় মতবিনিময়ের আহ্বান জানান তিনি। প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন। চীনকে জানতে হলে তাদের সংস্কৃতি, প্রতিষ্ঠান ও মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে হবে এবং তারা কীভাবে এত বড় অর্থনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তর সম্পন্ন করেছে, তা গভীরভাবে অনুধাবনের চেষ্টা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, চীনের দীর্ঘমেয়াদি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, দ্রুত শিল্পায়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির ব্যবহার, উদ্ভাবন এবং গৃহীত প্রকল্পের নিখুঁত বাস্তবায়ন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বর্তমানে বৈশ্বিক মোট শিল্প উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চীনে হওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশটির রূপান্তরের অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা পেতে পারে।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের সময় বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বের প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা হয়েছিল, যা কালক্রমে সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়নে চীনের কারিগরি সহায়তা ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ ছাড়া দুই দেশের নাগরিকদের যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও গতিশীল করতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য চীনের ই-ভিসা প্রবর্তন, যৌথ বাণিজ্য বিরোধ মেটাতে উদ্যোক্তাদের জন্য সালিশি সহায়তা প্রদান এবং বাণিজ্য-বিনিয়োগে ভারসাম্য আনার ওপর জোর দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের পদস্থ কূটনৈতিক কর্মকর্তা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সফরকারী প্রতিনিধি দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ : বাংলাদেশ চীন সম্পর্ক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর

প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ ও বহুমাত্রিক কৌশলগত সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ়, গভীর ও জনকল্যাণমুখী করতে পারস্পরিক যোগাযোগ, আস্থা এবং সার্বিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি দলের এই চীন সফর দুদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকায় চীনা দূতাবাস আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি দলের সফরপূর্ব এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জনপ্রশাসন উপদেষ্টা জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এটি দ্বিতীয় প্রতিনিধি দলের চীন সফর। সফরটি কেবল প্রথাগত ও আনুষ্ঠানিক বৈঠকের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে চীনের সরকারি কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা, গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় মতবিনিময়ের আহ্বান জানান তিনি। প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন। চীনকে জানতে হলে তাদের সংস্কৃতি, প্রতিষ্ঠান ও মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে হবে এবং তারা কীভাবে এত বড় অর্থনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তর সম্পন্ন করেছে, তা গভীরভাবে অনুধাবনের চেষ্টা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, চীনের দীর্ঘমেয়াদি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, দ্রুত শিল্পায়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির ব্যবহার, উদ্ভাবন এবং গৃহীত প্রকল্পের নিখুঁত বাস্তবায়ন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বর্তমানে বৈশ্বিক মোট শিল্প উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চীনে হওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশটির রূপান্তরের অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা পেতে পারে।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের সময় বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বের প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা হয়েছিল, যা কালক্রমে সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়নে চীনের কারিগরি সহায়তা ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ ছাড়া দুই দেশের নাগরিকদের যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও গতিশীল করতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য চীনের ই-ভিসা প্রবর্তন, যৌথ বাণিজ্য বিরোধ মেটাতে উদ্যোক্তাদের জন্য সালিশি সহায়তা প্রদান এবং বাণিজ্য-বিনিয়োগে ভারসাম্য আনার ওপর জোর দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের পদস্থ কূটনৈতিক কর্মকর্তা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সফরকারী প্রতিনিধি দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ