ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ফ্যামিলি কার্ডের আশায় দিলেন টিপসই, পরে জানলেন ‘বিয়ে হয়ে গেছে’

ফ্যামিলি কার্ডের আশায় দিলেন টিপসই, পরে জানলেন ‘বিয়ে হয়ে গেছে’
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় সরকারি ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এক বিধবা নারীর কাছ থেকে কৌশলে জাতীয় পরিচয়পত্র ও টিপসই নিয়ে ভুয়া এফিডেভিট ও কাবিননামা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক সম্মানহানির শিকার হয়ে ভুক্তভোগী নারী স্থানীয় মসজিদ কমিটির কাছে বিচার দাবি করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী মোছাম্মৎ আছিয়া বেগম (৪৩) উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের পাটুলী গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় এক যুগ আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর পাঁচ সন্তানকে নিয়ে তিনি দিনমজুরির মাধ্যমে জীবনসংগ্রাম চালিয়ে আসছেন। প্রায় চার বছর আগে তার দ্বিতীয় ছেলেকে বিয়ে করানোর সময় প্রতিবেশী আব্দুল কদ্দুছকে (৬২) উকিল শ্বশুর বানানো হয়। সেই সুবাদে কদ্দুছ বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং স্থানীয় আব্দুছ ছাত্তার নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন সময় আছিয়া বেগমকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতেন। প্রতিবারই আছিয়া বেগম বিয়ের প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দেন।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় প্রায় দেড় মাস আগে আব্দুস ছাত্তার সরকারি ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে আছিয়া বেগমকে নিজের দোকানে ডেকে নেন। সেখানে তার এনআইডি কার্ডের ফটোকপি ও ছবি নেওয়ার পর একটি খাতায় দুটি টিপসই নেওয়া হয়। সম্প্রতি এলাকায় আব্দুল কদ্দুছের সঙ্গে আছিয়া বেগমের বিয়ে হয়েছে দাবি করে একটি এফিডেভিট ও কাবিননামার কপি প্রচার করা হয়।

ঘটনাটি জানতে পেরে আছিয়া বেগম স্থানীয় মসজিদের সভাপতি ও ইমামের কাছে বিচার প্রার্থনা করেন। বিষয়টি নিয়ে গ্রামে সালিশ বসলে সেখানে উপস্থাপিত কাবিননামায় দেখা যায়, ফুলবাড়িয়া পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাজী অফিসের সীল ব্যবহার করে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করা হয়েছে এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ দেখানো হয়েছে। কাবিননামায় উল্লিখিত সাক্ষীরা জানিয়েছেন, তারা এ বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত।

এদিকে পৌরসভার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, তার নম্বর, সীল ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে এই ভুয়া কাবিননামা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান জানান, এ ঘটনায় থানায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি; অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহীদুল ইসলাম সোহাগ এ ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক প্রতারণা হিসেবে আখ্যায়িত করে ভুক্তভোগী নারীকে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ ও মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন।

ট্যাগ : ফুলবাড়িয়া ময়মনসিংহ ফ্যামিলি কার্ড প্রতারণা

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


ফ্যামিলি কার্ডের আশায় দিলেন টিপসই, পরে জানলেন ‘বিয়ে হয়ে গেছে’

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় সরকারি ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এক বিধবা নারীর কাছ থেকে কৌশলে জাতীয় পরিচয়পত্র ও টিপসই নিয়ে ভুয়া এফিডেভিট ও কাবিননামা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক সম্মানহানির শিকার হয়ে ভুক্তভোগী নারী স্থানীয় মসজিদ কমিটির কাছে বিচার দাবি করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী মোছাম্মৎ আছিয়া বেগম (৪৩) উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের পাটুলী গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় এক যুগ আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর পাঁচ সন্তানকে নিয়ে তিনি দিনমজুরির মাধ্যমে জীবনসংগ্রাম চালিয়ে আসছেন। প্রায় চার বছর আগে তার দ্বিতীয় ছেলেকে বিয়ে করানোর সময় প্রতিবেশী আব্দুল কদ্দুছকে (৬২) উকিল শ্বশুর বানানো হয়। সেই সুবাদে কদ্দুছ বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং স্থানীয় আব্দুছ ছাত্তার নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন সময় আছিয়া বেগমকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতেন। প্রতিবারই আছিয়া বেগম বিয়ের প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দেন।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় প্রায় দেড় মাস আগে আব্দুস ছাত্তার সরকারি ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে আছিয়া বেগমকে নিজের দোকানে ডেকে নেন। সেখানে তার এনআইডি কার্ডের ফটোকপি ও ছবি নেওয়ার পর একটি খাতায় দুটি টিপসই নেওয়া হয়। সম্প্রতি এলাকায় আব্দুল কদ্দুছের সঙ্গে আছিয়া বেগমের বিয়ে হয়েছে দাবি করে একটি এফিডেভিট ও কাবিননামার কপি প্রচার করা হয়।

ঘটনাটি জানতে পেরে আছিয়া বেগম স্থানীয় মসজিদের সভাপতি ও ইমামের কাছে বিচার প্রার্থনা করেন। বিষয়টি নিয়ে গ্রামে সালিশ বসলে সেখানে উপস্থাপিত কাবিননামায় দেখা যায়, ফুলবাড়িয়া পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাজী অফিসের সীল ব্যবহার করে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করা হয়েছে এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ দেখানো হয়েছে। কাবিননামায় উল্লিখিত সাক্ষীরা জানিয়েছেন, তারা এ বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত।

এদিকে পৌরসভার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, তার নম্বর, সীল ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে এই ভুয়া কাবিননামা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান জানান, এ ঘটনায় থানায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি; অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহীদুল ইসলাম সোহাগ এ ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক প্রতারণা হিসেবে আখ্যায়িত করে ভুক্তভোগী নারীকে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ ও মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ