দীর্ঘ তিন বছর বিরতির পর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক গতিশীল করতে এবং আমদানি-রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ভারতের নয়াদিল্লিতে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ ও ভারত। আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ও আগামীকাল শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুই দিনব্যাপী ১৬তম বাংলাদেশ-ভারত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ট্রেডের (জেডব্লিউজি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিদ্যমান রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সচল রাখা, স্থলবন্দরের বাধা কমানো এবং ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর ক্ষেত্রে এ বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নয়াদিল্লির এ বৈঠকে অংশ নিচ্ছে। এর আগে ১৫তম জেডব্লিউজি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকায়।
এবারের বৈঠকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় পাটপণ্যের ওপর ভারতের আরোপিত নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক। সম্প্রতি ভারত বাংলাদেশি জুট ইয়ার্ন, হেসিয়ান ফেব্রিক ও জুট স্যাকের ওপর বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে ভারতীয় সুতা আমদানিতে বাংলাদেশের বিধিনিষেধ এবং বন্দরকেন্দ্রিক বিভিন্ন জটিলতা নিরসনে দুপক্ষ নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১০.৯৬ বিলিয়ন ডলার, যার বিপরীতে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল মাত্র ১.৭৫ বিলিয়ন ডলার—ফলে বাণিজ্য ঘাটতির ব্যবধান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯.২১ বিলিয়ন ডলার। এ কারণে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা অপসারণ, স্থলবন্দরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে জোর দিচ্ছে ঢাকা।
এ ছাড়া দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে দুই দেশের মধ্যকার প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) এগিয়ে নেওয়ার রূপরেখা নিয়েও নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে এ বৈঠকে।
মন্তব্যসমূহ