ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সম্ভাব্য রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও নাশকতা প্রতিহত করতে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার (ব্লু-প্রিন্ট) আওতায় রাজধানীসহ জেলা পর্যায়ে চলছে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, গত এক মাসে সারা দেশে প্রায় ৫৩ হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং চলতি অক্টোবরের প্রথম ছয় দিনেই গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রায় ১০ হাজার ব্যক্তি। শুধু রাজধানীতেই প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০০ জনকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। আটককৃতদের বড় অংশই আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল ও মাঝারি সারির নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, দেশে ফেরা মাত্রই গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি হওয়ার স্পষ্ট ঝুঁকি থাকায় শেখ হাসিনার এই ঘোষণা মূলত কোণঠাসা নেতাকর্মীদের চাঙা রাখার একটি রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক কৌশল। তবে অন্য অংশের মতে, এটি কোনো আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে আইনি নিশ্চয়তা সাপেক্ষে প্রত্যাবর্তনের চেষ্টার অংশ হতে পারে। অন্যদিকে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, কেবল গণগ্রেপ্তার দিয়ে রাজনৈতিক সংকট সামাল দেওয়া কঠিন; বিশেষ করে দেশের কারাগারগুলোর মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৫ হাজার হলেও সেখানে বর্তমানে প্রায় দ্বিগুণ বন্দি থাকায় ব্যবস্থাপনাগত বড় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, ডিসেম্বরে রাজধানীসহ কোথাও জনজীবন অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা বা কোনো নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম সহ্য করা হবে না। মাঠপর্যায়ের অভিযানের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানি ও গুজব ঠেকাতে সাইবার নজরদারি জোরদার রাখা হয়েছে।
মন্তব্যসমূহ