সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আগামী চার বছরে পর্যায়ক্রমে দেশের ৪১ লাখ পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সুবিধার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এবারের বাজেটে ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বরাদ্দের আওতায় ধাপে ধাপে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে, যাতে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো সরাসরি সরকারি সহায়তা পেতে পারে।
তিনি আরও জানান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য শুধু ভাতা প্রদানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না সরকারের উদ্যোগ। তাদের কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর কর ও ভ্যাট কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে হার্টের ভাল্ব, অক্সিজেনেটর এবং ভাস্কুলার স্টেন্টের মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণের কর হ্রাসের আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে ওষুধ শিল্পের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে ঔষধ প্রশাসনের পরীক্ষাগারকে আন্তর্জাতিক মানের ‘এমএল-থ্রি (ML3)’ পর্যায়ে উন্নীত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বিগত সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের অর্থনীতি ও আর্থিক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্তব্যসমূহ