কৃষ্ণসাগরে ড্রোন হামলায় তুরস্কের মালিকানাধীন একটি বাণিজ্যিক জাহাজে আগুন লাগার পর সেটি ডুবে গেছে। এতে জাহাজের ক্যাপ্টেনসহ দুজন নিহত হয়েছেন। জাহাজটিতে থাকা অপর ১১ জন ক্রুকে জীবিত উদ্ধার করেছে রোমানিয়ার কোস্টগার্ড।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দাবি করেন, নিরপেক্ষ জলসীমায় থাকা অবস্থায় ভুট্টাবাহী ওই বেসামরিক জাহাজে দুটি রুশ ড্রোন সরাসরি আঘাত হানে। তিনি জানান, জাহাজটিতে আজারবাইজান ও ভারতের নাগরিকরা ক্রু হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় ক্যাপ্টেন নিহত হয়েছেন এবং এক ক্রুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
রোমানিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নৌ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের পতাকাবাহী ‘রোয়াদ মাম্মাদভ’ নামের সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজটি ইউক্রেনের ইজমাইল বন্দর থেকে শস্য নিয়ে ইতালির উদ্দেশে যাচ্ছিল। সোমবার রোমানিয়ার তুলচা কাউন্টির স্ফানতুল জর্জ থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণে রোমানিয়ার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জাহাজটিতে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়। উদ্ধারকারী দল ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করে এবং দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
রোমানিয়া কর্তৃপক্ষ আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট না করলেও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো ড্রোন হামলার তথ্য উল্লেখ করেছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে সংঘাত শুরুর পর থেকে কৃষ্ণসাগরের বাণিজ্যিক নৌপথগুলো মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। এর আগেও কৃষ্ণসাগরে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন শনাক্ত হওয়ার পর তা ধ্বংস করতে যুদ্ধবিমান নামিয়েছিল রোমানিয়া।
সূত্র: এনডিটিভি
মন্তব্যসমূহ