ভোরের মায়াবী আলোয় কুয়াশার নরম পরশ, ঘাসের ডগায় শিশিরের মুক্তোদানা আর ধানের পাতায় টলমলে জলকণা—প্রকৃতির নিঃশব্দ ক্যানভাসে যেন ফুটে উঠছে ঋতু বদলের ছবি। উত্তরের জনপদ লালমনিরহাটে শরতের আবহের মধ্যেই ভোরের কুয়াশা ও শীতল বাতাসে মিলছে শীতের মৃদু আগমনী আভাস। মাঠ-প্রান্তর আর সবুজের বুকজুড়ে শিশিরভেজা সকালের দৃশ্য জানান দিচ্ছে, ঋতুর পালাবদন ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে।
আজ বৃহস্পতিবার, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩। সকাল ৭টার দিকে জেলা সদরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঠের সবুজ ঘাস ও ধানের পাতায় জমে আছে শিশিরবিন্দু। হালকা কুয়াশায় দূরের গাছপালা ও পথঘাট আবছা হয়ে আছে। সূর্যের কোমল আলো ফুটতেই সেই কুয়াশা ধীরে ধীরে সরে গিয়ে শিশিরভেজা প্রকৃতি ফিরে পাচ্ছে তার স্বাভাবিক রূপ।
পার্শ্ববর্তী কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকালে তাপমাত্রা প্রায় ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে।
পৌর এলাকার বাসিন্দা বাবলু মিয়া বাসসকে বলেন, কয়েকদিন ধরেই রাতের শেষভাগে কুয়াশার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ভোরে ঘুম ভাঙতেই চারপাশে ঠান্ডা ঠান্ডা অনুভূতি, বাতাসেও যেন শীতের মৃদু পরশ।
জেলা সদরের বড়বাড়ী ইউনিয়নের কৃষক আফসার আলী বাসসকে বলেন, ‘শীত এখনো পুরোপুরি আসেনি। তবে ভোরের কুয়াশা আর রাতের ঠান্ডা জানান দিচ্ছে, শীতের দিনগুলো ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে।’
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বাসসকে জানিয়েছেন, সকালে হালকা কুয়াশার সঙ্গে শীতল বাতাসে প্রকৃতিতে ধীরে ধীরে শীতের আবহ তৈরি হচ্ছে। ভোরের পরিবেশে এখন সেই পরিবর্তন বেশ অনুভূত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান বাসসকে জানিয়েছেন, তুলনামূলকভাবে লালমনিরহাট হিমালয় পর্বতমালার নিকটবর্তী হওয়ায় এ অঞ্চলে অনেক সময় শীতের আভাস আগেভাগেই অনুভূত হয়। এখন প্রকৃতিতে শীতের মৃদু আমেজ দেখা দিচ্ছে। তবে শীতের প্রকোপ বাড়লে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের প্রস্তুতি থাকবে।
দিনের আলোয় উষ্ণতার ছোঁয়া এখনো রয়ে গেছে। কিন্তু ভোরের কুয়াশা, শিশিরভেজা ঘাস আর ধানের পাতায় জমে থাকা জলকণায় শীতের বার্তা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। রাতের হিমেল বাতাস আর সকালের স্নিগ্ধ কুয়াশায় লালমনিরহাটের প্রকৃতি যেন নীরবে বলে উঠছে—শীত আসছে, ধীরে ধীরে; কুয়াশার চাদর আর শিশিরের মুক্তোদানা সঙ্গে নিয়ে।
মন্তব্যসমূহ