মালয়েশিয়া থেকে ১ হাজার ৪৭৬ জন মিয়ানমারের নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মিয়ানমারের তিনটি নৌযানের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাবাসন করা হয়।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমহাসচিব মাখজান মাহিউদ্দিনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।
প্রত্যাবাসন করা ব্যক্তিদের মধ্যে ১ হাজার ৩৭০ জন পুরুষ, ৭৯ জন নারী এবং ২৭ শিশু রয়েছে। শিশুদের মধ্যে ২০ জন ছেলে ও সাতজন মেয়ে। প্রত্যাবাসনকারীদের বয়স ৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।
মালয়েশিয়ার ১৪টি অভিবাসন আটককেন্দ্র থেকে তাদের নির্বাচন করা হয়। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মিয়ানমার তাদের পরিচয় যাচাইয়ের পর গত ১৩ আগস্ট কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে প্রত্যাবাসনের জন্য তালিকা পাঠায়।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি স্বেচ্ছামূলক এবং মিয়ানমারের সঙ্গে সম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরিচালিত হয়েছে। দেশে ফেরত পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্টদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরিচয় যাচাই করা হয়। পরে তাদের লুমুত এলাকায় রয়্যাল মালয়েশিয়ান নেভির ঘাঁটিতে নেওয়া হয়।
আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের নৌবাহিনীর ইউএমএস মোত্তামা, ইউএমএস কিং সিন ফিউ শিন এবং হাসপাতাল জাহাজ ইউএমএস থানলউইনের মাধ্যমে তাদের মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এর আগে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছিলেন, মিয়ানমার মালয়েশিয়ায় থাকা প্রায় ৫ হাজার নাগরিককে গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছে। এরপর তাদের পরিচয় শনাক্ত ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আনোয়ার ইব্রাহিম আরও জানিয়েছিলেন, ধাপে ধাপে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনা করতে মিয়ানমারের সামরিক নেতা মিন অং হ্লাইংকে মালয়েশিয়ায় আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে মিয়ানমারের কাছ থেকে নিশ্চয়তা চাওয়ার কথাও জানান তিনি।
গত ২৯ জুলাই নেগেরি সেমবিলানের জেলেবু জেলার সিম্পাং দুরিয়ানে এক বক্তব্যে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মিয়ানমার আগে তাদের নাগরিকদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। তবে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির পর মিয়ানমার মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার নাগরিককে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্তব্যসমূহ