নওগাঁয় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ও বাসশ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে চতুর্থ দিনের মতো যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। গত রোববার সকাল থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ ও কয়েকটি আন্তজেলা রুটে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বিকল্প যানবাহন ব্যবহার করতে গিয়ে তাদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে, পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান সময়।
বাস ও অটোরিকশার মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকের সঙ্গে ‘মহন্ত পরিবহন’ নামের একটি বাসের চালক ও সহকারীর বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে একই ঘটনার জেরে পত্নীতলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোচালকেরা সংঘবদ্ধ হয়ে বাসচালক রুবেল হোসেন ও তাঁর সহকারীকে মারধর করেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন সকাল থেকে নওগাঁ থেকে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট ও বগুড়া রুটে বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। বাস চলাচল বন্ধ রাখার পাশাপাশি বাসশ্রমিকেরা সড়কে অটোরিকশা চলাচলেও বাধা দেন। অভিযোগ রয়েছে, বাসশ্রমিকদের বাধা উপেক্ষা করে যেসব অটোচালক সড়কে অটোরিকশা চালানোর চেষ্টা করেছেন, তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
এরপর সোমবার রাতে প্রশাসনের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পর অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকার সময় ছিল দুই ঘণ্টারও কম। মঙ্গলবার সকালে বদলগাছীতে একটি যাত্রীবাহী বাস গেলে অটোরিকশার চালকেরা আবারও বাসচালকের ওপর হামলা করেন বলে বাসশ্রমিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। এর পরপরই ফের বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
টানা চতুর্থ দিন বাস ও অটোরিকশা চলাচল বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প যানবাহন ব্যবহার করতে গিয়ে অনেককে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে একাধিক যানবাহন পরিবর্তন করে গন্তব্যে পৌঁছাতে গিয়ে সময়ও বেশি লাগছে।
রাজশাহীগামী যাত্রী ইকবাল হোসেন বলেন, ‘স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসা করানোর জন্য রাজশাহী যাওয়ার উদ্দেশে বাসস্ট্যান্ডে এসে শুনি বাস বন্ধ। সিএনজিচালকেরা কয়েক গুণ বেশি ভাড়া চাচ্ছেন। এভাবে আকস্মিক যান চলাচল বন্ধ থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়বে।’
আদালতে হাজিরা দিতে আসা পোরশার তারিক হোসেন বলেন, ‘বাড়ি থেকে বের হয়ে শুনি বাস নেই। তিন দফায় ভেঙে ভেঙে বিকল্প যানবাহনে আসায় অতিরিক্ত ১৫০ টাকা বেশি ভাড়া গুনতে হয়েছে, সেই সঙ্গে সময়ও নষ্ট হয়েছে প্রচুর। আমরা চাই দ্রুত এই ভোগান্তির অবসান হোক।’
নওগাঁ জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তার কোনো লিখিত রূপ আমরা পাইনি। ফলে সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে নিরাপত্তার অভাব ও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। লিখিত পেলে আজ থেকেই বাস চলাচল স্বাভাবিক হবে।’
অন্যদিকে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের অভ্যন্তরীণ কিছু দ্বন্দ্বের কারণে সাময়িক এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। শ্রমিকদের দাবিগুলো পূরণের জোরালো আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, আশা করি খুব দ্রুতই সমাধান আসবে।’
মন্তব্যসমূহ