ঢাকা    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ল্যাপটপ চুরি করে বহিষ্কার হয়েছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী: রাশেদ খান

ল্যাপটপ চুরি করে বহিষ্কার হয়েছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী: রাশেদ খান
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বর্তমান মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ছাত্র ফেডারেশনের রাজনীতি করার সময় ল্যাপটপ চুরি করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তার দাবি, ওই অভিযোগের তদন্তের পর নাসীরুদ্দীনকে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ করেন রাশেদ খান।

পোস্টে রাশেদ খান দাবি করেন, ২০১৯ সালে ছাত্র ফেডারেশনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীর ল্যাপটপ চুরি করেছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগের পর ছাত্র ফেডারেশনের তৎকালীন দায়িত্বশীল নেতারা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন বলে দাবি করেন তিনি।

রাশেদ খানের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্ত কমিটি এ বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে আনা ল্যাপটপ চুরির অভিযোগের সত্যতা পায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সে সময় ছাত্র ফেডারেশন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

নিজের দাবির পক্ষে ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বহিষ্কারসংক্রান্ত বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের একটি পুরোনো নোটিশের ছবিও প্রকাশ করেন রাশেদ খান।

তিনি আরও দাবি করেন, সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। ল্যাপটপ চুরির অভিযোগে বহিষ্কারের পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কিছু সময় রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

রাশেদ খান দাবি করেন, দীর্ঘ সময় পর এবি পার্টিতে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে নাসীরুদ্দীন আবার রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হন। তবে তার ভাষ্য, এবি পার্টির নেতাকর্মীরা নাসীরুদ্দীনের বিরুদ্ধে ল্যাপটপ চুরির অভিযোগের বিষয়টি জানতেন না। জানলে তারা তাকে দলে নিতেন কি না—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন এবং তার বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগের প্রসঙ্গ তোলেন। পোস্টে তিনি নাসীরুদ্দীনকে ‘ল্যাপটপ চোর’ এবং ‘ছাগলচোর’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে ছাগল চুরির অভিযোগের বিষয়ে পোস্টে কোনো বিস্তারিত তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

রাশেদ খান লেখেন, ‘ছাত্র রাজনীতিতে যার হাতেখড়ি ল্যাপটপ চুরি দিয়ে আর জাতীয় রাজনীতিতে ছাগল চুরি দিয়ে, সেই চোর নাসীর কীভাবে এত ন্যায়নীতির বয়ান আওড়ায়?’

তার ওই ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর তীব্র সমালোচনা করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোস্টটি প্রকাশের পর তা ১৮০টির বেশি শেয়ার হয় এবং এতে প্রায় দুই হাজার মন্তব্য পড়ে।

তবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে করা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ ও ছাত্র ফেডারেশন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি রাশেদ খানের বক্তব্য ও প্রকাশ করা পুরোনো নোটিশের ওপর ভিত্তি করে সামনে এসেছে। অভিযোগটি আদালতের রায়ে প্রমাণিত—এমন কোনো তথ্য প্রতিবেদনে নেই।

ট্যাগ : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রাশেদ খান

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ল্যাপটপ চুরি করে বহিষ্কার হয়েছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী: রাশেদ খান

প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বর্তমান মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ছাত্র ফেডারেশনের রাজনীতি করার সময় ল্যাপটপ চুরি করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তার দাবি, ওই অভিযোগের তদন্তের পর নাসীরুদ্দীনকে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ করেন রাশেদ খান।

পোস্টে রাশেদ খান দাবি করেন, ২০১৯ সালে ছাত্র ফেডারেশনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীর ল্যাপটপ চুরি করেছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগের পর ছাত্র ফেডারেশনের তৎকালীন দায়িত্বশীল নেতারা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন বলে দাবি করেন তিনি।

রাশেদ খানের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্ত কমিটি এ বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে আনা ল্যাপটপ চুরির অভিযোগের সত্যতা পায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সে সময় ছাত্র ফেডারেশন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

নিজের দাবির পক্ষে ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বহিষ্কারসংক্রান্ত বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের একটি পুরোনো নোটিশের ছবিও প্রকাশ করেন রাশেদ খান।

তিনি আরও দাবি করেন, সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। ল্যাপটপ চুরির অভিযোগে বহিষ্কারের পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কিছু সময় রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

রাশেদ খান দাবি করেন, দীর্ঘ সময় পর এবি পার্টিতে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে নাসীরুদ্দীন আবার রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হন। তবে তার ভাষ্য, এবি পার্টির নেতাকর্মীরা নাসীরুদ্দীনের বিরুদ্ধে ল্যাপটপ চুরির অভিযোগের বিষয়টি জানতেন না। জানলে তারা তাকে দলে নিতেন কি না—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন এবং তার বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগের প্রসঙ্গ তোলেন। পোস্টে তিনি নাসীরুদ্দীনকে ‘ল্যাপটপ চোর’ এবং ‘ছাগলচোর’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে ছাগল চুরির অভিযোগের বিষয়ে পোস্টে কোনো বিস্তারিত তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

রাশেদ খান লেখেন, ‘ছাত্র রাজনীতিতে যার হাতেখড়ি ল্যাপটপ চুরি দিয়ে আর জাতীয় রাজনীতিতে ছাগল চুরি দিয়ে, সেই চোর নাসীর কীভাবে এত ন্যায়নীতির বয়ান আওড়ায়?’

তার ওই ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর তীব্র সমালোচনা করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোস্টটি প্রকাশের পর তা ১৮০টির বেশি শেয়ার হয় এবং এতে প্রায় দুই হাজার মন্তব্য পড়ে।

তবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে করা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ ও ছাত্র ফেডারেশন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি রাশেদ খানের বক্তব্য ও প্রকাশ করা পুরোনো নোটিশের ওপর ভিত্তি করে সামনে এসেছে। অভিযোগটি আদালতের রায়ে প্রমাণিত—এমন কোনো তথ্য প্রতিবেদনে নেই।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ