কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার চালিভাংগা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে টেঁটাযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে চালিভাংগা ইউনিয়নের নলচর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা মো. শহিদুল্লাহ (২০), যুবদল নেতা মো. ওয়াসিম প্রধান (৪০), ছালমা আক্তার (২৫), জয়মালা আক্তার (৫০), শরুফা আক্তার (৪৫) ও চালিভাংগা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জামাল সরকার (৪৫)। তাদের মধ্যে ছালমা আক্তার ও জামাল সরকারের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চালিভাংগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নলচর গ্রামের বাসিন্দারা বৈঠক করে যুবদল নেতা রবিউল্লাহ রবিকে গ্রামের একক প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেন। ওই বৈঠকে একই গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. বারেক প্রধানও রবিউল্লাহ রবিকে সমর্থন করেন।
পরবর্তীতে বারেক প্রধান নিজেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। এ নিয়ে রবি গ্রুপ ও বারেক গ্রুপের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে বারেক প্রধানের ছেলে মহসিন রবিউল্লাহ রবির সমর্থকদের ধাওয়া করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকালে উভয় গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে টেঁটাসহ দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার হয় বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া রবিউল্লাহ রবির বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের অভিযোগ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে রবিউল্লাহ রবির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংঘর্ষের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চালিভাংগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর জের ধরে মঙ্গলবার সকালে দুই গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তিনি আরও বলেন, উভয় গ্রুপের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, দুই গ্রুপের সংঘর্ষের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
সংঘর্ষের বিষয়ে বারেক প্রধান ও রবিউল্লাহ রবির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্যসমূহ