দেশের বর্তমান সামাজিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন নানা সমস্যার চিত্র তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন ড. শামারুহ মির্জা।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে তিনি গ্রামীণ জনপদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে জমিজমা সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
পোস্টে জনস্বাস্থ্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি প্রস্তাব ও অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি।
স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের বিষয়ে শামারুহ মির্জা হামের টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করার পাশাপাশি প্রয়োজনে প্রণোদনা দেওয়ার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে গ্রামগঞ্জের প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং গবাদিপশুর টিকাদান কর্মসূচি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
টিকাদান ও জনসচেতনতা কার্যক্রমে প্রয়োজনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করে ফলোআপ কর্মসূচি গ্রহণেরও তাগিদ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি টিকাদান কর্মসূচির প্রচারে গণমাধ্যমকে ব্যাপকভাবে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্ষেত্রে জমি দখলকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের ভাঙচুর বা সহিংসতার ঘটনায় প্রশাসনকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন শামারুহ মির্জা।
তবে তার পোস্টের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে বাংলাদেশে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধের অন্যতম কারণ হিসেবে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি দ্বন্দ্বের প্রসঙ্গ।
ড. শামারুহ মির্জা লিখেছেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জমি নিয়ে শত শত অনুরোধ পাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে তার। এসব বিরোধের তালিকায় ভাইয়ে ভাইয়ে, কাজিনদের মধ্যে, শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী কিংবা ব্যবসায়িক অংশীদার—কেউই বাদ যায় না বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
জমি নিয়ে বিরোধের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি আক্ষেপ করে লিখেছেন, ‘একটা জিনিস খুব কাছ থেকে দেখেছি, জমির ব্যাপার হলে মানুষ সহজে ছাড়ে না। বছরের পর বছর বিরোধ চলে, সম্পর্ক নষ্ট হয়, আর অনেক সময় মানুষের সবচেয়ে কুৎসিত দিকটা বেরিয়ে আসে।’
পোস্টে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান, জনসচেতনতা এবং জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের পাশাপাশি এসব বিষয়ে প্রশাসনের ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টটিতে ড. শামারুহ মির্জা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের এসব সমস্যা নিয়ে তার পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। প্রতিবেদনে বিশ্লেষকদের মতামত হিসেবে বলা হয়েছে, একজন সচেতন নাগরিক ও গবেষক হিসেবে তিনি তৃণমূলের এসব সমস্যা, জনস্বাস্থ্য এবং সামাজিক শৃঙ্খলার বিষয় সামনে এনেছেন।
মন্তব্যসমূহ