ঢাকা    সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৫ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান অব্যাহত, আরও ৪১৫ জন আটক

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান অব্যাহত, আরও ৪১৫ জন আটক
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। জেলার ১৮টি থানায় একযোগে চালানো সর্বশেষ অভিযানে ৪১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সমন্বয়ে এ অভিযান চালানো হয়। কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে প্রথম আলোকে এ তথ্য জানান।

এর আগে কুমিল্লায় গত বুধবার ও শনিবার রাতেও একইভাবে অভিযান চালানো হয়। ওই দুই অভিযানে মোট ৮৭৮ জনকে আটক করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ৫৯৭ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্য ২৮১ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে গত পাঁচ দিনে তিন দফা অভিযানে কুমিল্লায় ১ হাজার ২৯৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, ‘কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে—এমন বিভিন্ন স্থান, কিশোরদের আড্ডাস্থল ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে একদিকে কুমিল্লাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে, অন্যদিকে অপরাধপ্রবণতাও কমে আসছে। আমরা কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ অভিযানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উঠতি বয়সী কিশোরেরা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য নিয়মিত এ ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে।

এদিকে রোববার রাতে কুমিল্লা নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৮ জনকে আটক করেছে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ। তাঁদের মধ্যে অন্তত চারজন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছে পুলিশ।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার রাত আড়াইটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, নগরের যেসব এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা আড্ডা দেয় এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করে, সেসব এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন আলোচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এবং অপরজন অন্য একটি গ্যাংয়ের সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অতীতের অপরাধ কর্মকাণ্ডও পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এর আগে বুধবার রাতেও কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অপর ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এরপর শনিবার রাত ৮টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চালানো অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ১৪৬ কিশোরকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়। অপর ১০৮ জনের বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং-সংক্রান্ত অপরাধ, মাদক ব্যবসা ও সেবন, নিয়মিত মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

শনিবারের অভিযানে নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ ৩৭ জনকে আটক করেছিল। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে জানিয়েছিল পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, ওই পাঁচজনই নগরের আলোচিত ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াডের’ সক্রিয় সদস্য। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আনিসুর রহমান ওরফে আনিক (১৯) ছিলেন। পুলিশ তাঁকে রতন গ্রুপের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, চলমান অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ধরন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ : কুমিল্লায় জেলা

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান অব্যাহত, আরও ৪১৫ জন আটক

প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। জেলার ১৮টি থানায় একযোগে চালানো সর্বশেষ অভিযানে ৪১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সমন্বয়ে এ অভিযান চালানো হয়। কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে প্রথম আলোকে এ তথ্য জানান।

এর আগে কুমিল্লায় গত বুধবার ও শনিবার রাতেও একইভাবে অভিযান চালানো হয়। ওই দুই অভিযানে মোট ৮৭৮ জনকে আটক করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ৫৯৭ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্য ২৮১ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে গত পাঁচ দিনে তিন দফা অভিযানে কুমিল্লায় ১ হাজার ২৯৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, ‘কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে—এমন বিভিন্ন স্থান, কিশোরদের আড্ডাস্থল ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে একদিকে কুমিল্লাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে, অন্যদিকে অপরাধপ্রবণতাও কমে আসছে। আমরা কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ অভিযানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উঠতি বয়সী কিশোরেরা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য নিয়মিত এ ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে।

এদিকে রোববার রাতে কুমিল্লা নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৮ জনকে আটক করেছে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ। তাঁদের মধ্যে অন্তত চারজন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছে পুলিশ।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার রাত আড়াইটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, নগরের যেসব এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা আড্ডা দেয় এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করে, সেসব এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন আলোচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এবং অপরজন অন্য একটি গ্যাংয়ের সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অতীতের অপরাধ কর্মকাণ্ডও পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এর আগে বুধবার রাতেও কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অপর ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এরপর শনিবার রাত ৮টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চালানো অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ১৪৬ কিশোরকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়। অপর ১০৮ জনের বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং-সংক্রান্ত অপরাধ, মাদক ব্যবসা ও সেবন, নিয়মিত মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

শনিবারের অভিযানে নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ ৩৭ জনকে আটক করেছিল। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে জানিয়েছিল পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, ওই পাঁচজনই নগরের আলোচিত ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াডের’ সক্রিয় সদস্য। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আনিসুর রহমান ওরফে আনিক (১৯) ছিলেন। পুলিশ তাঁকে রতন গ্রুপের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, চলমান অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ধরন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ