ফিলিস্তিন ইস্যুতে প্রকাশ্যে কথা না বলতে তার দলের কেউ কখনো তাকে পরামর্শ দেননি বলে জানিয়েছেন হলিউড অভিনেত্রী ফ্লোরেন্স পিউ। বরং ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ সিনেমার শুটিংয়ের সঙ্গে সময়সূচির সংঘাত থাকা সত্ত্বেও ‘টুগেদার ফর প্যালেস্টাইন’ আয়োজনে যোগ দিতে যারা তাকে সহযোগিতা করেছিলেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি ভ্যানিটি ফেয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ‘অ্যাভেঞ্জার্স’ তারকা ফ্লোরেন্স পিউ।
সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিনের পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলা নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে পিউ বলেন, এ বিষয়ে কথা বলতে তিনি কখনো ভয় পাননি। বরং হলিউডের অনেকেই দীর্ঘ সময় ফিলিস্তিন ইস্যুতে নীরব থাকায় তিনি বিস্মিত হয়েছেন।
ফ্লোরেন্স পিউ বলেন, ‘মানুষ কথা বলা শুরু করতে এবং সহানুভূতি দেখাতে এত সময় নিল কেন? আমি জানি না। তবে এ বিষয়ে কথা বলতে আমি কখনো ভয় পাইনি।’
ফিলিস্তিন ইস্যুতে প্রকাশ্যে কথা বলার কারণে গত কয়েক বছরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কয়েক লাখ অনুসারী কমে থাকতে পারে বলেও জানান অভিনেত্রী। তবে এ কারণে তার কোনো অনুশোচনা নেই বলে স্পষ্ট করেন তিনি।
পিউ বলেন, ‘এখনো সবকিছু ঘটছে। শিশুরা মারা যাচ্ছে, মায়েরা কষ্ট পাচ্ছেন।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একদিকে নিজের স্বাভাবিক জীবনের ছবি ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড তুলে ধরা এবং অন্যদিকে মানুষের দুর্ভোগ ও মৃত্যুর খবর দেখার বিষয়টিও তাকে ভাবায় বলে জানান তিনি।
ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তার বিভিন্ন লিংক নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে আসছেন ফ্লোরেন্স পিউ। গত বছর ‘টুগেদার ফর প্যালেস্টাইন’ নামে একটি তহবিল সংগ্রহের আয়োজনে হঠাৎ উপস্থিত হয়ে বক্তব্যও দিয়েছিলেন তিনি।
ওই আয়োজনে ফ্লোরেন্স পিউয়ের অংশগ্রহণের সময় ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ সিনেমার শুটিংয়ের সঙ্গে সময়সূচির সংঘাত ছিল। তারপরও আয়োজনে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী।
‘টুগেদার ফর প্যালেস্টাইন’ আয়োজন থেকে ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে ২০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে নিজের অবস্থান প্রকাশ করতে গিয়ে পিউ একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ব্যক্তিগত জীবন এবং চলমান মানবিক সংকটের ছবি তুলে ধরার মধ্যকার বৈপরীত্য নিয়েও কথা বলেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংকট চলমান থাকা অবস্থায় স্বাভাবিক জীবনের ছবি প্রকাশ করার পাশাপাশি মানুষের দুর্ভোগ দেখার বিষয়টি তাকে গভীরভাবে ভাবায়।
মন্তব্যসমূহ