রাজধানীর গুলিস্তানের জিপিও মোড়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয় ঘিরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অবস্থানের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় যুবদলের নেতাকর্মীরা কার্যালয়টির আশপাশে অবস্থান নেন। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যাতে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে মিছিল-মিটিং করতে না পারে, সে বিষয়ে ঢাকা মহানগর যুবদলের ইউনিটগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নয়নের দাবি, সকালে আওয়ামী লীগের স্লোগান দিয়ে একটি মিছিলের খবর পাওয়ার পর যুবদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। পরে তারা জানতে পারেন, জাসদ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জাসদ কার্যালয়ে জড়ো হয়ে বৈঠক করছেন।
তিনি বলেন, কোনো ধরনের হামলা, নির্যাতন বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া থেকে বিরত থাকাই তাদের অবস্থানের মূল উদ্দেশ্য। কার্যালয়ে অবস্থানকারীদের মধ্যে নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও তরুণ রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের ওপর হামলা হলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের থানায় নিয়ে যাওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে তারা সহযোগিতা করছেন।
নয়ন আরও বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করাই যুবদলের অবস্থান।
এ সময় জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। জোটটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে ককটেল ও বোমা বিস্ফোরণের অভিযোগ তুলে নয়ন বলেন, এসব ঘটনার বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না কেন, তা তাদের কাছে পরিষ্কার নয়।
এর আগে জাসদ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়েছেন—এমন অভিযোগে যুবদলের নেতাকর্মীরা কার্যালয়টি ঘিরে রাখেন। পরে ঘটনাস্থলে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের ডিসি হারুন অর রশীদসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য উপস্থিত হন।
বিকেল ৪টার দিকে জাসদ কার্যালয় থেকে একে একে বেশ কয়েকজনকে হাতকড়া পরিয়ে বের করে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার মো. আকতার হোসেন জানান, জাসদের প্রধান কার্যালয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া এবং বহিরাগতদের অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। সেখানে বৈঠক চলছিল বলেও সন্দেহ করা হচ্ছিল। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ক্রাইম ও গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে।
তিনি জানান, এরই মধ্যে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে হেফাজতে নিয়ে পল্টন থানায় নেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদ ও সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণের পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অভিযান তখনও চলমান ছিল।
মন্তব্যসমূহ