ঢাকা    শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুট হয়েছে কোটি টাকার সরঞ্জাম

মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুট হয়েছে কোটি টাকার সরঞ্জাম
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

রাজধানীর মিরপুরে স্বল্পমূল্যে ও বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে ঘটনার পর ক্লিনিকটির আশপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় অবস্থিত ক্লিনিকটিতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরদিন শুক্রবার প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে তার অভিযোগের ভিত্তিতে একজনের নাম উল্লেখ করে আরও ২০০ থেকে ২৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

শাহ আলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। মামলাটি নথিভুক্ত হওয়ার পর জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

ডা. নাসরিন আখতার জানান, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যেখানে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, সরকারি ইপিআই টিকাদান এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়া হয়। ১৯৭৬ সালে কার্যক্রম শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি প্রায় পাঁচ দশক ধরে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে।

অভিযোগে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে ২টার মধ্যে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন ব্যক্তি মুখ ঢেকে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর ব্যানারে ক্লিনিকটিতে প্রবেশ করে। এ সময় নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে ক্লিনিকের স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়।

তার দাবি, হামলাকারীরা একটি পাকা ভবন ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা ধ্বংস করে সেখানে সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির সাইনবোর্ড টাঙিয়ে চলে যায়।

ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ভাঙচুরের পাশাপাশি সেখান থেকে ওষুধ, ভ্যাকসিন, চিকিৎসা সরঞ্জাম, নগদ অর্থ ও বিভিন্ন আসবাবপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৫ লাখ টাকার ওষুধ ও ভ্যাকসিন, আনুমানিক ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নগদ অর্থ এবং প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম লুট হয়েছে।

লুট হওয়া সামগ্রীর মধ্যে জেনারেটর, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা, তিনটি স্টিলের আলমারি, পাঁচটি ফাইল কেবিনেট, ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি ও রিএজেন্ট, দুটি টেলিভিশন, দুটি কম্পিউটার, দুটি ল্যাপটপ ও দুটি প্রিন্টারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র রয়েছে বলে জানিয়েছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, হামলা ও লুটপাটে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

জমি নিয়ে কোনো বিরোধের বিষয়ে ডা. নাসরিন আখতার বলেন, ঘটনার আগে পুলিশ বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার কাছ থেকে তারা উচ্ছেদ কিংবা সতর্কতামূলক কোনো নোটিশ পাননি। তার অভিযোগ, গভীর রাতে ট্রাক ও ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে আকস্মিকভাবে স্থাপনাটি উচ্ছেদ করা হয়।

এ ঘটনায় মো. হানিফ মিয়া (৫০) নামের একজনকে আসামি করে আরও ২০০ থেকে ২৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ডা. নাসরিন আখতার।

তবে জমিটির মালিকানা নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছে সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড। তাদের দাবি, ২০০৬ সালে জমিটি সমিতির নামে বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং ২০২১ সালে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জমিটি তাদের নামে রেজিস্ট্রি করা হয়।

সমিতির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, ক্লিনিকটি উচ্ছেদের বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরে জমিটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি তাদের।

সমিতির ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জমিটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে সমিতির সদস্যরা জমিটি ব্যবহার করতে পারছিলেন না বলেও দাবি করা হয়েছে।

এদিকে, হামলা ও ভাঙচুরের সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতির মধ্যেও কীভাবে হামলা ও লুটপাট চলল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

ট্যাগ : মিরপুর

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুট হয়েছে কোটি টাকার সরঞ্জাম

প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজধানীর মিরপুরে স্বল্পমূল্যে ও বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে ঘটনার পর ক্লিনিকটির আশপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় অবস্থিত ক্লিনিকটিতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরদিন শুক্রবার প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে তার অভিযোগের ভিত্তিতে একজনের নাম উল্লেখ করে আরও ২০০ থেকে ২৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

শাহ আলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। মামলাটি নথিভুক্ত হওয়ার পর জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

ডা. নাসরিন আখতার জানান, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যেখানে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, সরকারি ইপিআই টিকাদান এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়া হয়। ১৯৭৬ সালে কার্যক্রম শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি প্রায় পাঁচ দশক ধরে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে।

অভিযোগে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে ২টার মধ্যে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন ব্যক্তি মুখ ঢেকে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর ব্যানারে ক্লিনিকটিতে প্রবেশ করে। এ সময় নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে ক্লিনিকের স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়।

তার দাবি, হামলাকারীরা একটি পাকা ভবন ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা ধ্বংস করে সেখানে সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির সাইনবোর্ড টাঙিয়ে চলে যায়।

ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ভাঙচুরের পাশাপাশি সেখান থেকে ওষুধ, ভ্যাকসিন, চিকিৎসা সরঞ্জাম, নগদ অর্থ ও বিভিন্ন আসবাবপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৫ লাখ টাকার ওষুধ ও ভ্যাকসিন, আনুমানিক ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নগদ অর্থ এবং প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম লুট হয়েছে।

লুট হওয়া সামগ্রীর মধ্যে জেনারেটর, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা, তিনটি স্টিলের আলমারি, পাঁচটি ফাইল কেবিনেট, ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি ও রিএজেন্ট, দুটি টেলিভিশন, দুটি কম্পিউটার, দুটি ল্যাপটপ ও দুটি প্রিন্টারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র রয়েছে বলে জানিয়েছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, হামলা ও লুটপাটে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

জমি নিয়ে কোনো বিরোধের বিষয়ে ডা. নাসরিন আখতার বলেন, ঘটনার আগে পুলিশ বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার কাছ থেকে তারা উচ্ছেদ কিংবা সতর্কতামূলক কোনো নোটিশ পাননি। তার অভিযোগ, গভীর রাতে ট্রাক ও ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে আকস্মিকভাবে স্থাপনাটি উচ্ছেদ করা হয়।

এ ঘটনায় মো. হানিফ মিয়া (৫০) নামের একজনকে আসামি করে আরও ২০০ থেকে ২৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ডা. নাসরিন আখতার।

তবে জমিটির মালিকানা নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছে সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড। তাদের দাবি, ২০০৬ সালে জমিটি সমিতির নামে বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং ২০২১ সালে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জমিটি তাদের নামে রেজিস্ট্রি করা হয়।

সমিতির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, ক্লিনিকটি উচ্ছেদের বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরে জমিটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি তাদের।

সমিতির ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জমিটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে সমিতির সদস্যরা জমিটি ব্যবহার করতে পারছিলেন না বলেও দাবি করা হয়েছে।

এদিকে, হামলা ও ভাঙচুরের সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতির মধ্যেও কীভাবে হামলা ও লুটপাট চলল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ