ঢাকা    শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ফারাক্কার প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৫৪ নদী নাব্যতা হারিয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

ফারাক্কার প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৫৪ নদী নাব্যতা হারিয়েছে: প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

ফারাক্কার প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৫৪টি নদী ভরাট হয়ে নাব্যতা হারিয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। উজান থেকে মিষ্টি পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় নদী ও খালে পলি জমার পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততার চাপও বাড়ছে বলে জানান তিনি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্কে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) ও বিকাশ লিমিটেডের যৌথ বনায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, উজান থেকে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় নদী-খালে পলি জমছে। ফলে যেসব নদী ও খাল একসময় স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ধরে রাখত, সেগুলো ধীরে ধীরে নাব্যতা হারাচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে লবণাক্ততার প্রভাব।

তিনি বলেন, সুন্দরবন ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ রক্ষায় বাংলাদেশের প্রাপ্য মিষ্টি পানির হিস্যা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ সংকট শুধু আলোচনা বা কূটনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ভারতের সঙ্গে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। সম্প্রতি ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকেও বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, মিষ্টি পানির প্রবাহ কমে গেলে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি ও মিষ্টি পানির সংযোগস্থলের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর ফলে সুন্দরবনের সুন্দরীসহ বিভিন্ন উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। মানুষের কর্মকাণ্ড বা অন্য কোনো কারণে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হলে সুন্দরবন সংরক্ষণ আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সুন্দরবনের আশপাশে থাকা ‘লাল শ্রেণির’ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান শেখ ফরিদুল ইসলাম।

তিনি জানান, সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি গাছ রোপণ করা হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য আরও প্রায় ২ কোটি কেওড়া চারা ও বীজ প্রস্তুত রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে এসব চারা ও বীজ রোপণ করা হবে। ফেব্রুয়ারি থেকে পরবর্তী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আরও প্রায় সাড়ে ৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনাহীনভাবে গাছ লাগানো হবে না। কোন অঞ্চলে কোন ধরনের গাছ বেশি উপযোগী, তা বিবেচনা করে বৃক্ষরোপণ করা হবে। পাহাড়, সমতল, উপকূল, কৃষিজমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমে এনজিওসহ বিভিন্ন সংগঠনকেও যুক্ত করা হচ্ছে।

বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে চলতি বছর যশোর, মাগুরা, নড়াইল, খুলনা ও সাতক্ষীরায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার তালগাছ লাগানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাল, নারকেলসহ উঁচু গাছের সংখ্যা বাড়ানো গেলে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বৈদ্যুতিক বাস চালুর মতো বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি নদী-খাল পুনরুদ্ধার, মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।

একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্লাস্টিক ও পলিথিনমুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, খুলনাকে সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিকাশের সহযোগিতায় নগরীতে বৃক্ষরোপণ ও গাছের পরিচর্যার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব গাছ তিন বছর পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। স্বাগত বক্তব্য দেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী রাজিব আহমেদ। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি, খুলনা বিভাগীয় বন সংরক্ষক মো. ইমরান আহমেদ, কেএমপির উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমান, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সাজ্জাদুর রহমান রাসেল, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক এস এম রুবায়েত আবদুল্লাহ এবং বিকাশের এভিপি হুমায়ুন কবির।

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ফারাক্কার প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৫৪ নদী নাব্যতা হারিয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ফারাক্কার প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৫৪টি নদী ভরাট হয়ে নাব্যতা হারিয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। উজান থেকে মিষ্টি পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় নদী ও খালে পলি জমার পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততার চাপও বাড়ছে বলে জানান তিনি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্কে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) ও বিকাশ লিমিটেডের যৌথ বনায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, উজান থেকে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় নদী-খালে পলি জমছে। ফলে যেসব নদী ও খাল একসময় স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ধরে রাখত, সেগুলো ধীরে ধীরে নাব্যতা হারাচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে লবণাক্ততার প্রভাব।

তিনি বলেন, সুন্দরবন ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ রক্ষায় বাংলাদেশের প্রাপ্য মিষ্টি পানির হিস্যা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ সংকট শুধু আলোচনা বা কূটনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ভারতের সঙ্গে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। সম্প্রতি ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকেও বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, মিষ্টি পানির প্রবাহ কমে গেলে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি ও মিষ্টি পানির সংযোগস্থলের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর ফলে সুন্দরবনের সুন্দরীসহ বিভিন্ন উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। মানুষের কর্মকাণ্ড বা অন্য কোনো কারণে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হলে সুন্দরবন সংরক্ষণ আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সুন্দরবনের আশপাশে থাকা ‘লাল শ্রেণির’ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান শেখ ফরিদুল ইসলাম।

তিনি জানান, সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি গাছ রোপণ করা হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য আরও প্রায় ২ কোটি কেওড়া চারা ও বীজ প্রস্তুত রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে এসব চারা ও বীজ রোপণ করা হবে। ফেব্রুয়ারি থেকে পরবর্তী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আরও প্রায় সাড়ে ৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনাহীনভাবে গাছ লাগানো হবে না। কোন অঞ্চলে কোন ধরনের গাছ বেশি উপযোগী, তা বিবেচনা করে বৃক্ষরোপণ করা হবে। পাহাড়, সমতল, উপকূল, কৃষিজমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমে এনজিওসহ বিভিন্ন সংগঠনকেও যুক্ত করা হচ্ছে।

বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে চলতি বছর যশোর, মাগুরা, নড়াইল, খুলনা ও সাতক্ষীরায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার তালগাছ লাগানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাল, নারকেলসহ উঁচু গাছের সংখ্যা বাড়ানো গেলে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বৈদ্যুতিক বাস চালুর মতো বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি নদী-খাল পুনরুদ্ধার, মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।

একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্লাস্টিক ও পলিথিনমুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, খুলনাকে সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিকাশের সহযোগিতায় নগরীতে বৃক্ষরোপণ ও গাছের পরিচর্যার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব গাছ তিন বছর পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। স্বাগত বক্তব্য দেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী রাজিব আহমেদ। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি, খুলনা বিভাগীয় বন সংরক্ষক মো. ইমরান আহমেদ, কেএমপির উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমান, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সাজ্জাদুর রহমান রাসেল, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক এস এম রুবায়েত আবদুল্লাহ এবং বিকাশের এভিপি হুমায়ুন কবির।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ