ঢাকা    বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ১০ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

স্ত্রীর মৃত্যুর তদন্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ, অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

স্ত্রীর মৃত্যুর তদন্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ, অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি গ্রেপ্তার
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশে তার স্ত্রীর সন্দেহজনক মৃত্যুর তদন্তে প্রভাব বিস্তার এবং পুলিশি নথি থেকে নিজের নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রায় ৯০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি) তাকে গ্রেপ্তার করে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে মামলা করেছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম আওলাদ হোসেন। তার বয়স ৫১ বছর। এএফপির অভিযোগ, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই বছরে তিনি বাংলাদেশে পরিচিত কয়েকজনের কাছে ৯০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন। পুলিশের দাবি, এসব অর্থের একটি অংশ বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল।

এএফপি জানিয়েছে, রেহানা পারভিন নামের এক অস্ট্রেলিয়ান-বাংলাদেশি নাগরিক ও পাঁচ সন্তানের মা ২০২৪ সালের জুলাইয়ে নিখোঁজ হন। একই বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের একটি গ্রামে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের ফরেনসিক পরীক্ষায় মরদেহটির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তার মৃত্যুর ঘটনাকে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এরপর অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ—দুই দেশের কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে।

সংগৃহীত ছবি

এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কুইন্সল্যান্ড পুলিশ সার্ভিসের মাধ্যমে রেহানা পারভিনের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়ার পর সংস্থাটি প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পরে বাংলাদেশে তার মরদেহ শনাক্ত হওয়া এবং মৃত্যুর ধরন নিয়ে সন্দেহের তথ্য পাওয়ার পর তদন্তটি অস্ট্রেলিয়ার কমনওয়েলথ ক্রিমিনাল কোডের আওতায় বিদেশে কোনো অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকের মৃত্যুসংক্রান্ত গুরুতর অপরাধের দিকেও নেওয়া হয়।

তদন্তের অংশ হিসেবে এএফপি সিডনি ও ব্রিসবেনের কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালায়। এ সময় আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরের নথি ও ব্যাংক রেকর্ড জব্দ করা হয়। পরে এসব আর্থিক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশে চলমান তদন্তে প্রভাব বিস্তারের কথিত প্রচেষ্টার বিষয়টি সামনে আসে বলে জানিয়েছে এএফপি।

গত ২১ সেপ্টেম্বর এএফপির সদস্যরা কুইন্সল্যান্ডের গুডনা ও রেডব্যাংক প্লেইন্স এলাকায় কয়েকটি বাড়িতে অভিযান চালান। সেখান থেকে আওলাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইসও জব্দ করা হয়েছে, যা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে।

এএফপির তথ্য অনুযায়ী, আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিমিনাল কোডের ৭০.২(১) ধারায় বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার আইনে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে বেআইনি সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি এই ধারার আওতায় পড়ে।

এএফপি কমান্ডার স্টিফেন জে বলেন, কোনো গুরুতর অপরাধের তদন্তের ফলাফল প্রভাবিত করতে ঘুষ বা দুর্নীতির চেষ্টা করা হলে তা অস্ট্রেলিয়া ও বিদেশ—উভয় ক্ষেত্রেই গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। তদন্তে প্রভাব বিস্তারের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এএফপির সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

তবে এএফপি স্পষ্ট করেছে, কোনো বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তা কথিত অর্থ গ্রহণ করেছেন—এমন প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। একইভাবে কথিত ঘুষের অর্থ বাংলাদেশে চলমান তদন্তের ওপর কোনো প্রভাব ফেলেছে, এমন প্রমাণও পুলিশের হাতে নেই। এএফপির ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে চলমান তদন্তকে প্রভাবিত করার কথিত প্রচেষ্টা সফল হয়নি। রেহানা পারভিনের মৃত্যুর ঘটনাটি বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষও পৃথকভাবে তদন্ত করছে।

এদিকে আওলাদ হোসেনের আইনজীবী তোরিক ডিব জানিয়েছেন, তার মক্কেল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং আদালতে এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়বেন। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (এবিসি)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার জামিনের আবেদন আগামী মাসে শুনানির জন্য নির্ধারিত হতে পারে।

রেহানা পারভিনের মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের তদন্তের পাশাপাশি এএফপির তদন্তও চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে হত্যার অভিযোগে কোনো দণ্ডের তথ্য নেই এবং অস্ট্রেলিয়াতেও তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে বিচার হয়নি। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটি বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার কথিত প্রচেষ্টার সঙ্গে সম্পর্কিত।

এএফপির ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ায় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার ক্ষেত্রে এটি সংস্থাটির প্রথম ঘটনা।

ট্যাগ : আওলাদ হোসেন অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


স্ত্রীর মৃত্যুর তদন্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ, অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশে তার স্ত্রীর সন্দেহজনক মৃত্যুর তদন্তে প্রভাব বিস্তার এবং পুলিশি নথি থেকে নিজের নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রায় ৯০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি) তাকে গ্রেপ্তার করে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে মামলা করেছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম আওলাদ হোসেন। তার বয়স ৫১ বছর। এএফপির অভিযোগ, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই বছরে তিনি বাংলাদেশে পরিচিত কয়েকজনের কাছে ৯০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন। পুলিশের দাবি, এসব অর্থের একটি অংশ বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল।

এএফপি জানিয়েছে, রেহানা পারভিন নামের এক অস্ট্রেলিয়ান-বাংলাদেশি নাগরিক ও পাঁচ সন্তানের মা ২০২৪ সালের জুলাইয়ে নিখোঁজ হন। একই বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের একটি গ্রামে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের ফরেনসিক পরীক্ষায় মরদেহটির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তার মৃত্যুর ঘটনাকে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এরপর অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ—দুই দেশের কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে।

সংগৃহীত ছবি

এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কুইন্সল্যান্ড পুলিশ সার্ভিসের মাধ্যমে রেহানা পারভিনের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়ার পর সংস্থাটি প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পরে বাংলাদেশে তার মরদেহ শনাক্ত হওয়া এবং মৃত্যুর ধরন নিয়ে সন্দেহের তথ্য পাওয়ার পর তদন্তটি অস্ট্রেলিয়ার কমনওয়েলথ ক্রিমিনাল কোডের আওতায় বিদেশে কোনো অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকের মৃত্যুসংক্রান্ত গুরুতর অপরাধের দিকেও নেওয়া হয়।

তদন্তের অংশ হিসেবে এএফপি সিডনি ও ব্রিসবেনের কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালায়। এ সময় আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরের নথি ও ব্যাংক রেকর্ড জব্দ করা হয়। পরে এসব আর্থিক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশে চলমান তদন্তে প্রভাব বিস্তারের কথিত প্রচেষ্টার বিষয়টি সামনে আসে বলে জানিয়েছে এএফপি।

গত ২১ সেপ্টেম্বর এএফপির সদস্যরা কুইন্সল্যান্ডের গুডনা ও রেডব্যাংক প্লেইন্স এলাকায় কয়েকটি বাড়িতে অভিযান চালান। সেখান থেকে আওলাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইসও জব্দ করা হয়েছে, যা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে।

এএফপির তথ্য অনুযায়ী, আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিমিনাল কোডের ৭০.২(১) ধারায় বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার আইনে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে বেআইনি সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি এই ধারার আওতায় পড়ে।

এএফপি কমান্ডার স্টিফেন জে বলেন, কোনো গুরুতর অপরাধের তদন্তের ফলাফল প্রভাবিত করতে ঘুষ বা দুর্নীতির চেষ্টা করা হলে তা অস্ট্রেলিয়া ও বিদেশ—উভয় ক্ষেত্রেই গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। তদন্তে প্রভাব বিস্তারের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এএফপির সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

তবে এএফপি স্পষ্ট করেছে, কোনো বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তা কথিত অর্থ গ্রহণ করেছেন—এমন প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। একইভাবে কথিত ঘুষের অর্থ বাংলাদেশে চলমান তদন্তের ওপর কোনো প্রভাব ফেলেছে, এমন প্রমাণও পুলিশের হাতে নেই। এএফপির ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে চলমান তদন্তকে প্রভাবিত করার কথিত প্রচেষ্টা সফল হয়নি। রেহানা পারভিনের মৃত্যুর ঘটনাটি বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষও পৃথকভাবে তদন্ত করছে।

এদিকে আওলাদ হোসেনের আইনজীবী তোরিক ডিব জানিয়েছেন, তার মক্কেল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং আদালতে এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়বেন। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (এবিসি)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার জামিনের আবেদন আগামী মাসে শুনানির জন্য নির্ধারিত হতে পারে।

রেহানা পারভিনের মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের তদন্তের পাশাপাশি এএফপির তদন্তও চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে হত্যার অভিযোগে কোনো দণ্ডের তথ্য নেই এবং অস্ট্রেলিয়াতেও তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে বিচার হয়নি। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটি বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার কথিত প্রচেষ্টার সঙ্গে সম্পর্কিত।

এএফপির ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ায় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার ক্ষেত্রে এটি সংস্থাটির প্রথম ঘটনা।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ