জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে জোরালো সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে ফ্রান্স, কানাডা ও বৃটেন। মঙ্গলবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁন গাজায় ইসরাইলের চলমান ত্রাণ অবরোধ এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে একে গোটা বিশ্বের জন্য ‘চূড়ান্ত লজ্জা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে ম্যাক্রঁন বলেন, এক বছর আগে ফ্রান্সসহ এক ডজন দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। কিন্তু গাজায় চলমান হত্যাযজ্ঞের মধ্যে বিশ্ব যদি নিষ্ক্রিয় থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা অবশিষ্ট থাকবে না।
গাজায় কথিত যুদ্ধবিরতির পরও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পর্যাপ্ত পথ খুলে দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেন ম্যাক্রঁন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিশ্ববাসী কি এই পরিস্থিতি কেবল দেখেই যাবে?
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের দখলদারিত্ব ও আগ্রাসনেরও সমালোচনা করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে ইসরাইল স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না।
অধিবেশনের ফাঁকে ফ্রান্স, বৃটেন, কানাডা ও সৌদি আরবের যৌথ উদ্যোগে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রূপরেখা নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে সমর্থন জানানো হয়।
বৈঠকে বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বিশ্বনেতাদের সতর্ক করে বলেন, দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতিশ্রুতি যদি শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে।
তিনি আরও জানান, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড খণ্ডবিখণ্ড করার প্রচেষ্টা হিসেবে পশ্চিম তীরে স্থাপিত অবৈধ বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানির ওপর বৃটেন ইতোমধ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের বিষয়টি এভাবেই আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। ফ্রান্স, কানাডা ও বৃটেনের পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের প্রতি সমর্থনের পাশাপাশি গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানানো হয়েছে।