জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সরাসরি প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকে বসেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকরা। মঙ্গলবারের এই বৈঠককে ‘অত্যন্ত ইতিবাচক’ ও ফলপ্রসূ বলে বর্ণনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে খুব শিগগিরই দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের বিশেষ অনুরোধ ও আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠকটির আয়োজন করা হয়। এতে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনায় ইরানের নিজস্ব বার্তা ও শর্তাবলি সরাসরি মার্কিন প্রশাসনের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টিও ছিল। ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করাই ছিল বৈঠকের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
বৈঠক শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে কূটনীতির পথ খোলা রাখতে তেহরান এখনো প্রস্তুত। তবে তার ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা বর্তমান কূটনৈতিক তৎপরতার অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বৈঠকটিকে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে খুব দ্রুতই পরবর্তী দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
ইরানের কূটনৈতিক মহলে বৈঠককে ঘিরে ইতিবাচক পরিবেশের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও দেশটির ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড করপস বা আইআরজিসি ভিন্ন বার্তা দিয়েছে। বাহিনীর একজন মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, কূটনৈতিক আলোচনা চললেও সম্ভাব্য যেকোনো সংঘাতময় পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং কঠোর জবাব দেওয়ার জন্য আইআরজিসি পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
ফলে একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা ফের শুরু হওয়ার মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি নতুন পথ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে তেহরানের পক্ষ থেকে আলোচনার পাশাপাশি সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়েছে। পরবর্তী বৈঠকে হরমুজ প্রণালি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং দুই দেশের পারস্পরিক শর্ত নিয়ে কী ধরনের অগ্রগতি হয়, সেটিই এখন আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।