ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অচলাবস্থা ও এর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রভাবের মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবারের ভাষণে তিনি সামরিক অভিযান ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিজের প্রশাসনের সাফল্য তুলে ধরতে পারেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। তবে যুদ্ধের বিস্তৃত প্রভাব তাঁর এসব দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে ট্রাম্পের বক্তব্য ঘিরে বিশ্বনেতাদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে ইরান যুদ্ধ। হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে বিঘ্ন এবং জ্বালানি সরবরাহের সংকটের মধ্যে ওয়াশিংটনের পরবর্তী অবস্থান কী হবে, তা নিয়েও নজর রয়েছে।
এএফপির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরার পাশাপাশি গাজা সংঘাত অবসানে তাঁর উদ্যোগের কথাও বলতে পারেন। ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আব্রাহাম চুক্তিতে আরও আরব দেশকে যুক্ত করার প্রচেষ্টাও তাঁর বক্তব্যে স্থান পেতে পারে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ড্যানিয়েল ফোর্তির মতে, ট্রাম্পের ভাষণের বিষয়বস্তু আগে থেকে নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। তবে তিনি একদিকে শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী হিসেবে নিজের অর্জন তুলে ধরতে পারেন, অন্যদিকে চলমান সামরিক অভিযানগুলোর প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারেন। বিশ্বনেতারা এ বক্তব্য কীভাবে গ্রহণ করবেন, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ভাষণের পাশাপাশি ট্রাম্পের একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। হোয়াইট হাউসের তথ্যের বরাতে এপি জানিয়েছে, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে তাঁর আলোচনার কথা রয়েছে। ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজের সঙ্গেও একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হতে পারে।
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলোর নেতা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলোচনায় বসার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। ইরান যুদ্ধের পরবর্তী পরিস্থিতি এবং সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে উদ্বেগ এসব আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
এদিকে জাতিসংঘের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্কও আলোচনায় রয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সংস্থাটির কার্যকারিতা ও নেতৃত্ব নিয়ে নিয়মিত সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের ভাষণেও সেই সমালোচনা ফিরে আসতে পারে।
গত বছরের সফরে এসকেলেটর বন্ধ হয়ে যাওয়া ও টেলিপ্রম্পটারে ত্রুটির ঘটনাকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ট্রাম্প ঘটনাগুলোকে নাশকতা হিসেবে উপস্থাপন করলেও জাতিসংঘের ব্যাখ্যা ছিল ভিন্ন। এবারের আয়োজনের আগে মহাসচিবের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট এসকেলেটর বারবার পরীক্ষা করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধিদলের টেলিপ্রম্পটার ব্যবহারের সুবিধার্থেও আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সপ্তাহব্যাপী সাধারণ বিতর্কের সূচনায় জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের বক্তব্যে চলমান যুদ্ধ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারের মতো বিষয় উঠে আসতে পারে। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে প্রথমে বক্তব্য দেওয়ার কথা ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার। এরপর ভাষণ দেওয়ার কথা ট্রাম্পের।
সূত্র: এএফপি