ভারত ও মিয়ানমার থেকে পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে মাদক প্রবেশ করে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তার দাবি, বাংলাদেশের যুবসমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করার লক্ষ্যেই দেশ দুটি থেকে পরিকল্পিতভাবে মাদক দেশে ঢোকানো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের তাজ প্যালেস ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ডেঙ্গু ও মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন এ সমাবেশের আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে দেশের যুবসমাজ ক্ষতির মুখে পড়বে। এ কারণে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছেন। মানুষের দুঃখ-কষ্ট বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এসব কর্মসূচির মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ডের পাশাপাশি ইমাম-মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গুম, খুন ও হত্যার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িতদের মধ্যে অনুশোচনা ছিল না বলে তিনি মনে করেন। তাদের লক্ষ্য ছিল নিজেদের অবস্থান শক্ত করা।
বিএনপি দেশপ্রেমের আদর্শ ধারণ করে দেশ গঠনে কাজ করতে চায় বলেও মন্তব্য করেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিকভাবেও উদ্যোগ নিতে হবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ ফরিদা খানম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা জেলার ক্রাইম অপস ও ট্রাফিক দক্ষিণের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম এবং ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. উমর ফারুক।
সমাবেশে কেরানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, স্কাউট শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।