ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ ৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

পর্যটন খাতের অবদান ৮-৯ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য: বিমানমন্ত্রী

পর্যটন খাতের অবদান ৮-৯ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য: বিমানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হয়েছে ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার-২০২৬। বৃহস্পতিবার মেলার উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব ছাড়া এ খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন কঠিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশের পর্যটনকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও পরিচিত করতে নতুন, উদ্ভাবনী ও ব্যয় সাশ্রয়ী উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান বিমানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের পর্যটন সম্ভাবনা শুধু সমুদ্রসৈকত বা পাহাড়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সুন্দরবন, কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেটের চা-বাগান, নদী-হাওর, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও ধর্মীয় স্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পর্যটনের সুযোগ রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন শ্রেণির ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি ট্যুরিজম মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পর্যটক আকর্ষণের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগানোর কথা জানান তিনি।

এ সময় পর্যটন খাতকে সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি জানান, বর্তমানে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) পর্যটন খাতের অবদান প্রায় ২ থেকে ৩ শতাংশ। এই অবদান ভবিষ্যতে ৮ থেকে ৯ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, পর্যটনের উন্নয়নে এখন থেকেই কাজ শুরু করতে হবে। দেশের পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিন দিনব্যাপী এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে। মেলায় প্রায় ৩০০টি বুথ রয়েছে।

মেলায় হোটেল, রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, এয়ারলাইনস, সরকারি-বেসরকারি পর্যটন সংস্থা, বিদেশি দূতাবাসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের পর্যটনপণ্য ও সেবা তুলে ধরছে।

মেলার উল্লেখযোগ্য আয়োজনের মধ্যে রয়েছে ‘ডেস্টিনেশন বাংলাদেশ শোকেস’, ‘ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম শোকেস’ ও ‘বাংলাদেশ ট্যুরিজম ইনভেস্টমেন্ট শোকেস’। এ ছাড়া ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়াতে বিটুবি সেশন, সেমিনার, ডেস্টিনেশন প্রেজেন্টেশন, প্যানেল আলোচনা, প্রোডাক্ট প্রমোশন ও নেটওয়ার্কিং সেশনের আয়োজন করা হয়েছে।

মেলায় বাংলাদেশ, নেপাল ও ফিলিপাইনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও থাকছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় এসব সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।

ট্যাগ : কক্সবাজার বিমানমন্ত্রী

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পর্যটন খাতের অবদান ৮-৯ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য: বিমানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হয়েছে ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার-২০২৬। বৃহস্পতিবার মেলার উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব ছাড়া এ খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন কঠিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশের পর্যটনকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও পরিচিত করতে নতুন, উদ্ভাবনী ও ব্যয় সাশ্রয়ী উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান বিমানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের পর্যটন সম্ভাবনা শুধু সমুদ্রসৈকত বা পাহাড়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সুন্দরবন, কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেটের চা-বাগান, নদী-হাওর, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও ধর্মীয় স্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পর্যটনের সুযোগ রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন শ্রেণির ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি ট্যুরিজম মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পর্যটক আকর্ষণের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগানোর কথা জানান তিনি।

এ সময় পর্যটন খাতকে সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি জানান, বর্তমানে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) পর্যটন খাতের অবদান প্রায় ২ থেকে ৩ শতাংশ। এই অবদান ভবিষ্যতে ৮ থেকে ৯ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, পর্যটনের উন্নয়নে এখন থেকেই কাজ শুরু করতে হবে। দেশের পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিন দিনব্যাপী এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে। মেলায় প্রায় ৩০০টি বুথ রয়েছে।

মেলায় হোটেল, রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, এয়ারলাইনস, সরকারি-বেসরকারি পর্যটন সংস্থা, বিদেশি দূতাবাসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের পর্যটনপণ্য ও সেবা তুলে ধরছে।

মেলার উল্লেখযোগ্য আয়োজনের মধ্যে রয়েছে ‘ডেস্টিনেশন বাংলাদেশ শোকেস’, ‘ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম শোকেস’ ও ‘বাংলাদেশ ট্যুরিজম ইনভেস্টমেন্ট শোকেস’। এ ছাড়া ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়াতে বিটুবি সেশন, সেমিনার, ডেস্টিনেশন প্রেজেন্টেশন, প্যানেল আলোচনা, প্রোডাক্ট প্রমোশন ও নেটওয়ার্কিং সেশনের আয়োজন করা হয়েছে।

মেলায় বাংলাদেশ, নেপাল ও ফিলিপাইনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও থাকছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় এসব সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ