জ্বালানি সংকটের কারণে গত দুই মাসে কোনো পোশাক কারখানা বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, কয়েক দিন আগের তুলনায় বর্তমানে গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে। বিদ্যুৎ বা জ্বালানি সংকটের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো পোশাক কারখানা বন্ধ হওয়ার তথ্য তাদের কাছে নেই। তবে সংকটের সামগ্রিক প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে আরও অন্তত তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে।
তিনি বলেন, পোশাকশিল্পে কোনো সমস্যার প্রভাব সাধারণত সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্যমান হয় না। একটি কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্তও তাৎক্ষণিকভাবে নেওয়া সম্ভব নয়। পাইপলাইনে থাকা অর্ডার শেষ করা, শ্রমিকদের আইন অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ এবং ব্যাংকের বিভিন্ন দায়-দায়িত্বসহ নানা বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কারখানা বন্ধের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়।
মাহমুদ হাসান খান জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে গত দুই মাসে কোনো কারখানা বন্ধ হয়নি। তবে আগামী তিন থেকে চার মাস পর এর প্রকৃত প্রভাব স্পষ্ট হতে পারে। একই সঙ্গে কয়েক মাস আগের কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনার কারণে কোনো কারখানা বর্তমানে বন্ধ হলে সেটিকে সরাসরি বর্তমান জ্বালানি সংকটের ফল হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় পোশাকশিল্পের ডাইং, ওয়াশিংসহ বিভিন্ন ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে বলেও জানান বিজিএমইএ সভাপতি। সম্প্রতি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। তার পর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, স্বাভাবিক সময়ে পোশাক কারখানাগুলো সাধারণত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা উৎপাদন কার্যক্রম চালায়। জ্বালানি সংকটের সময় অনেক প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। তারপরও নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য পাঠাতে উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।
গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন মাহমুদ হাসান খান। তিনি জানান, এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে একটি প্রেজেন্টেশন দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী দুই বছরের মধ্যে শিল্পখাতের জ্বালানি সমস্যার বড় ধরনের সমাধান সম্ভব বলে সংগঠনটি মনে করছে।