ঢাকা    বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ ৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইরানি হামলায় মার্কিন সামরিক সরঞ্জামে ৩.৭ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি

ইরানি হামলায় মার্কিন সামরিক সরঞ্জামে ৩.৭ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, ভবন, যানবাহন ও বিমান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের হাতে আসা নতুন ছবিতে এসব ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে।

সিবিএস জানিয়েছে, ছবিগুলো তাদের কাছে পাঠিয়েছেন বর্তমানে দায়িত্বে থাকা কয়েকজন মার্কিন সেনাসদস্য। সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যমসংক্রান্ত কড়াকড়ির কারণে তাঁরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব ছবি দেন।

একজন মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাসদস্য সিবিএসকে বলেন, ‘আমাদের ঘাঁটিগুলোর বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে, যা মার্কিন জনগণের কাছে জানানো হয়নি। আমরা যেন চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছি।’

সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির একটি ছবিতে বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি বিমানের পেছনের অংশে সরাসরি আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। সিবিএসের বর্ণনা অনুযায়ী, বিমানটির পোড়া মূল কাঠামো থেকে লেজের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ই-৩ সেন্ট্রি আকাশপথে নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ বিমান।

একই ঘাঁটির অন্য ছবিগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও ব্যারাক দেখা গেছে। পাশে থাকা কংক্রিটের ‘টি-ওয়াল’ অক্ষত থাকলেও আকাশপথের হামলা ঠেকাতে সেগুলো কার্যকর ছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কুয়েতের ক্যাম্প বিউরিংয়েও ব্যাপক ক্ষতির ছবি প্রকাশ করেছে সিবিএস। ঘাঁটিটি মার্কিন স্থলবাহিনীর সদস্য, সাঁজোয়া যান ও কিছু সামরিক বিমানের গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশস্থল। সেখানে ভবন ও যানবাহন ধ্বংসের দৃশ্য দেখা গেছে। কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানেও ইরানি হামলায় ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সিবিএস জানিয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মহাপরিদর্শক ১৪ সেপ্টেম্বর ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রথম ত্রৈমাসিক তদারকি প্রতিবেদন কংগ্রেসে জমা দিয়েছেন। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নিয়ে তৈরি ওই প্রতিবেদনে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত যুদ্ধসংক্রান্ত মার্কিন কার্যক্রম ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে।

সিবিএস নিউজ ওই প্রতিবেদনের তথ্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, যুদ্ধে মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের ক্ষতির সম্ভাব্য মূল্য সর্বোচ্চ ৩৭০ কোটি ডলার বা ৩.৭ বিলিয়ন ডলার। এই হিসাবের মধ্যে প্রায় ৬০টি বিমানও রয়েছে। তবে এসব বিমান সবই সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে, এমন কথা প্রতিবেদনে বলা হয়নি।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে থাকা মার্কিন অবস্থানগুলো ইরানি হামলার শিকার হয়েছে।

এর আগে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানি হামলায় একাধিক মার্কিন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্যও প্রকাশ করেছিল সিবিএস। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছিল, প্রায় আটটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান হালকা ক্ষতির পর আবার কাজে ফিরেছে। একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট হামলায় একটি ডানা হারিয়েছে।

মার্চের শুরুতে কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কিছু হামলাকে ছোট পরিসরের অনুপ্রবেশ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তবে সিবিএসের সঙ্গে কথা বলা সেনাসদস্যদের একজন সেই মূল্যায়নের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে বলেন, সর্বশেষ ক্ষয়ক্ষতি অনেক বড় পরিসরের।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর সিবিএসের সর্বশেষ প্রতিবেদনের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

সূত্র: সিবিএস নিউজ

ট্যাগ : ইরান যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন সামরিক ঘাঁটি

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ইরানি হামলায় মার্কিন সামরিক সরঞ্জামে ৩.৭ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি

প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, ভবন, যানবাহন ও বিমান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের হাতে আসা নতুন ছবিতে এসব ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে।

সিবিএস জানিয়েছে, ছবিগুলো তাদের কাছে পাঠিয়েছেন বর্তমানে দায়িত্বে থাকা কয়েকজন মার্কিন সেনাসদস্য। সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যমসংক্রান্ত কড়াকড়ির কারণে তাঁরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব ছবি দেন।

একজন মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাসদস্য সিবিএসকে বলেন, ‘আমাদের ঘাঁটিগুলোর বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে, যা মার্কিন জনগণের কাছে জানানো হয়নি। আমরা যেন চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছি।’

সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির একটি ছবিতে বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি বিমানের পেছনের অংশে সরাসরি আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। সিবিএসের বর্ণনা অনুযায়ী, বিমানটির পোড়া মূল কাঠামো থেকে লেজের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ই-৩ সেন্ট্রি আকাশপথে নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ বিমান।

একই ঘাঁটির অন্য ছবিগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও ব্যারাক দেখা গেছে। পাশে থাকা কংক্রিটের ‘টি-ওয়াল’ অক্ষত থাকলেও আকাশপথের হামলা ঠেকাতে সেগুলো কার্যকর ছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কুয়েতের ক্যাম্প বিউরিংয়েও ব্যাপক ক্ষতির ছবি প্রকাশ করেছে সিবিএস। ঘাঁটিটি মার্কিন স্থলবাহিনীর সদস্য, সাঁজোয়া যান ও কিছু সামরিক বিমানের গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশস্থল। সেখানে ভবন ও যানবাহন ধ্বংসের দৃশ্য দেখা গেছে। কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানেও ইরানি হামলায় ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সিবিএস জানিয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মহাপরিদর্শক ১৪ সেপ্টেম্বর ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রথম ত্রৈমাসিক তদারকি প্রতিবেদন কংগ্রেসে জমা দিয়েছেন। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নিয়ে তৈরি ওই প্রতিবেদনে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত যুদ্ধসংক্রান্ত মার্কিন কার্যক্রম ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে।

সিবিএস নিউজ ওই প্রতিবেদনের তথ্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, যুদ্ধে মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের ক্ষতির সম্ভাব্য মূল্য সর্বোচ্চ ৩৭০ কোটি ডলার বা ৩.৭ বিলিয়ন ডলার। এই হিসাবের মধ্যে প্রায় ৬০টি বিমানও রয়েছে। তবে এসব বিমান সবই সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে, এমন কথা প্রতিবেদনে বলা হয়নি।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে থাকা মার্কিন অবস্থানগুলো ইরানি হামলার শিকার হয়েছে।

এর আগে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানি হামলায় একাধিক মার্কিন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্যও প্রকাশ করেছিল সিবিএস। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছিল, প্রায় আটটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান হালকা ক্ষতির পর আবার কাজে ফিরেছে। একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট হামলায় একটি ডানা হারিয়েছে।

মার্চের শুরুতে কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কিছু হামলাকে ছোট পরিসরের অনুপ্রবেশ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তবে সিবিএসের সঙ্গে কথা বলা সেনাসদস্যদের একজন সেই মূল্যায়নের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে বলেন, সর্বশেষ ক্ষয়ক্ষতি অনেক বড় পরিসরের।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর সিবিএসের সর্বশেষ প্রতিবেদনের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

সূত্র: সিবিএস নিউজ


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ