ভারতে অবস্থানরত সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তবে এ বিষয়ে ভারত সরকারের কাছ থেকে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
শামা ওবায়েদ বলেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। আদালতের আইনি বিষয় নিয়ে মন্তব্য না করে তিনি জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হলো প্রচলিত আইন, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।
তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ভারতে অবস্থানরত বিভিন্ন আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় যোগাযোগ চলছে। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চিঠিপত্রও দেওয়া হয়েছে।
ভারত এর আগে নিশ্চিত করেছে যে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ তারা পেয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গত জুলাইয়ে বলেন, অনুরোধটি আইনি বিধান ও বিচারিক প্রক্রিয়া বিবেচনায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাত নেতার বিরুদ্ধে আদালতের রায় প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, রায়ের আনুষ্ঠানিক নথিপত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানোর পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।
ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরাতে আগের কূটনৈতিক উদ্যোগের অগ্রগতি নিয়েও সাংবাদিকেরা জানতে চান।
জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ভারত এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর দেয়নি। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দিক থেকেও আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে বাংলাদেশ জানতে পেরেছে।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
একদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমানও বলেছিলেন, শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ভারতে অবস্থানরত পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের বিষয়টি বাংলাদেশ ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছেও তুলে ধরেছে।