সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার পরও তুরস্ক ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ না আসায় মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত ৭ আগস্ট মক্কায় তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। এতে কোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই এর বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
তুরস্কের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখনই চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা ঠিক নয়। তাঁর দাবি, পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা এখনো আইনগতভাবে কার্যকর হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিডল ইস্ট আইকে ওই কর্মকর্তা বলেন, চুক্তিটি তিন দেশের অভ্যন্তরীণ অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তুরস্ক শিগগিরই এটি পার্লামেন্টে উপস্থাপন করতে পারে এবং অক্টোবরেই এ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তুরস্কের সংবিধান অনুযায়ী, পার্লামেন্টের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট কোনো নিরাপত্তা চুক্তি অনুমোদন করতে পারেন না। পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। সৌদি আরব রাজকীয় ডিক্রির মাধ্যমে চুক্তিটি অনুমোদন করতে পারে।
চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর তিন দেশকে হুমকি মূল্যায়ন, নিয়মিত পরামর্শ, যৌথ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা, সামরিক সরঞ্জামের সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। এসব কাঠামো তৈরি করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন ওই তুর্কি কর্মকর্তা।
তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব আগে দ্বিপক্ষীয়ভাবে সামরিক মহড়ায় অংশ নিলেও তিন দেশের মধ্যে এখনো কোনো ত্রিপক্ষীয় সামরিক মহড়া হয়নি। ফলে চুক্তি সই করলেই হামলার তাৎক্ষণিক যৌথ জবাব দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে—এমনটা বলা যাচ্ছে না।
গত ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলের বৈঠকে সৌদি আরবে চুক্তির একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শুরুতে তিন বছরের জন্য একজন পাকিস্তানি মহাসচিব দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানানো হয়েছে।
চুক্তিতে কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাই ন্যাটোর আর্টিকেল ৫-এর সঙ্গে তুলনা করা হলেও এতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামরিক পালটা হামলার বাধ্যবাধকতা নেই।
সৌদির সাম্প্রতিক হামলার পর তুরস্ক ও পাকিস্তান রাজনৈতিক সমর্থন জানিয়েছে। পাকিস্তান বলেছে, সৌদির সঙ্গে তাদের আলাদা প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকলেও রিয়াদ এখনো সামরিক হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানায়নি।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই