ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে প্রথম চার মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ইন্সপেক্টর জেনারেলের একটি প্রতিবেদন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৯ জুন পর্যন্ত এই ব্যয়ের মধ্যে ২২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্তর ব্যবহারে। সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের কারণে ক্ষতি হয়েছে আরও ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। যুদ্ধ পরিচালনার দৈনন্দিন কার্যক্রমে ব্যয় হয়েছে ৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।
তবে এই হিসাবের মধ্যে ইরানের পাল্টা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির মেরামত ও পুনর্নির্মাণের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত নেই। কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে থাকা মার্কিন স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতিও আলাদাভাবে হিসাব করা হয়নি।
বিপুল গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে মার্কিন সামরিক মজুতে কৌশলগত ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন অস্ত্র উৎপাদন এবং সরবরাহ বাড়াতে প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাও সামনে এসেছে।
সিবিএস নিউজের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধে ৩০টি পর্যন্ত এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং চারটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। আরও কয়েকটি সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব সংখ্যার বিষয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।
যুদ্ধসংশ্লিষ্ট মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যয় জুনের শুরু পর্যন্ত প্রায় ১১ কোটি ৩০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে কূটনীতিক ও মার্কিন নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার খরচও রয়েছে। ইরানের হামলায় ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনায় প্রায় ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারের ক্ষয়ক্ষতির কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কংগ্রেসকে জানিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় প্রায় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ঘাঁটি পুনর্নির্মাণের খরচ যুক্ত হলে মোট ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতারা দাবি করেছেন।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস