ঢাকা    বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

গণপরিবহনে আড়াই কোটি মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের ঝুঁকিতে

গণপরিবহনে আড়াই কোটি মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের ঝুঁকিতে
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

দেশের গণপরিবহনে যাতায়াতকারী প্রায় আড়াই কোটি মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যাত্রী ও পরিবহনকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশের সব গণপরিবহন শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সভাকক্ষে ঢাকা আহছানিয়া মিশন ও বিআরটিএ আয়োজিত ‘তামাকমুক্ত গণপরিবহন নিশ্চিতকরণে করণীয়’ শীর্ষক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, গণপরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এ কারণে চালক, সহকারী ও যাত্রীরা ধূমপানের ধোঁয়ার ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।

তারা গণপরিবহনে ‘তামাক ব্যবহার ও ধূমপান নিষেধ’ সংক্রান্ত নির্দেশনা এবং আইন অনুযায়ী সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শনের দাবি জানান।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, তামাক ও ধূমপানমুক্ত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ২০১৯ সাল থেকে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সহযোগিতায় ৬১ হাজারের বেশি গণপরিবহন চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের সুরক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।

সভায় ঢাকা আহছানিয়া মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (জিএটিএস) ২০১৭-এর তথ্য তুলে ধরে বলেন, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ ধূমপানের সঙ্গে যুক্ত।

তিনি জানান, দেশে প্রায় ৪ কোটি অধূমপায়ী মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন। গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের হার প্রায় ৪৪ শতাংশ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সভায় গণপরিবহন ও বিআরটিএ কার্যালয়গুলোকে পুরোপুরি তামাকমুক্ত রাখতে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে গণপরিবহন ও সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে ধূমপান নিষেধের চিহ্ন স্থাপন, নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সম্পর্কে প্রচার বাড়ানো।

বক্তারা বলেন, গণপরিবহনে ধূমপান বন্ধে আইনে নির্ধারিত জরিমানার বিধান কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও চালকদের তামাকের ক্ষতিকর দিক এবং আইন সম্পর্কে আরও সচেতন করা প্রয়োজন।

সভায় আরও বলা হয়, বাসের টিকিটে ধূমপানবিরোধী বার্তা যুক্ত করা এবং বিআরটিএর ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে প্রচার চালানো যেতে পারে।

অনুষ্ঠানে সিটিএফকের দক্ষিণ এশিয়া ও জর্ডানের আঞ্চলিক পরিচালক ড. মাহিন মালিক, ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সহ-সভাপতি ড. এসএম খলিলুর রহমান, বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানসহ বিআরটিএর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ : বিআরটিএ গণপরিবহন তামাক নিয়ন্ত্রণ

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গণপরিবহনে আড়াই কোটি মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের ঝুঁকিতে

প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশের গণপরিবহনে যাতায়াতকারী প্রায় আড়াই কোটি মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যাত্রী ও পরিবহনকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশের সব গণপরিবহন শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সভাকক্ষে ঢাকা আহছানিয়া মিশন ও বিআরটিএ আয়োজিত ‘তামাকমুক্ত গণপরিবহন নিশ্চিতকরণে করণীয়’ শীর্ষক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, গণপরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এ কারণে চালক, সহকারী ও যাত্রীরা ধূমপানের ধোঁয়ার ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।

তারা গণপরিবহনে ‘তামাক ব্যবহার ও ধূমপান নিষেধ’ সংক্রান্ত নির্দেশনা এবং আইন অনুযায়ী সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শনের দাবি জানান।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, তামাক ও ধূমপানমুক্ত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ২০১৯ সাল থেকে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সহযোগিতায় ৬১ হাজারের বেশি গণপরিবহন চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের সুরক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।

সভায় ঢাকা আহছানিয়া মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (জিএটিএস) ২০১৭-এর তথ্য তুলে ধরে বলেন, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ ধূমপানের সঙ্গে যুক্ত।

তিনি জানান, দেশে প্রায় ৪ কোটি অধূমপায়ী মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন। গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের হার প্রায় ৪৪ শতাংশ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সভায় গণপরিবহন ও বিআরটিএ কার্যালয়গুলোকে পুরোপুরি তামাকমুক্ত রাখতে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে গণপরিবহন ও সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে ধূমপান নিষেধের চিহ্ন স্থাপন, নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সম্পর্কে প্রচার বাড়ানো।

বক্তারা বলেন, গণপরিবহনে ধূমপান বন্ধে আইনে নির্ধারিত জরিমানার বিধান কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও চালকদের তামাকের ক্ষতিকর দিক এবং আইন সম্পর্কে আরও সচেতন করা প্রয়োজন।

সভায় আরও বলা হয়, বাসের টিকিটে ধূমপানবিরোধী বার্তা যুক্ত করা এবং বিআরটিএর ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে প্রচার চালানো যেতে পারে।

অনুষ্ঠানে সিটিএফকের দক্ষিণ এশিয়া ও জর্ডানের আঞ্চলিক পরিচালক ড. মাহিন মালিক, ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সহ-সভাপতি ড. এসএম খলিলুর রহমান, বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানসহ বিআরটিএর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ