গণপরিবহনে আড়াই কোটি মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের ঝুঁকিতে
দেশের গণপরিবহনে যাতায়াতকারী প্রায় আড়াই কোটি মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যাত্রী ও পরিবহনকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশের সব গণপরিবহন শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সভাকক্ষে ঢাকা আহছানিয়া মিশন ও বিআরটিএ আয়োজিত ‘তামাকমুক্ত গণপরিবহন নিশ্চিতকরণে করণীয়’ শীর্ষক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।সভায় বক্তারা বলেন, গণপরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এ কারণে চালক, সহকারী ও যাত্রীরা ধূমপানের ধোঁয়ার ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।তারা গণপরিবহনে ‘তামাক ব্যবহার ও ধূমপান নিষেধ’ সংক্রান্ত নির্দেশনা এবং আইন অনুযায়ী সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শনের দাবি জানান।[BANGVIEWS-POST:5514]বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, তামাক ও ধূমপানমুক্ত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ২০১৯ সাল থেকে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সহযোগিতায় ৬১ হাজারের বেশি গণপরিবহন চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের সুরক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।সভায় ঢাকা আহছানিয়া মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (জিএটিএস) ২০১৭-এর তথ্য তুলে ধরে বলেন, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ ধূমপানের সঙ্গে যুক্ত।তিনি জানান, দেশে প্রায় ৪ কোটি অধূমপায়ী মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন। গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের হার প্রায় ৪৪ শতাংশ বলে উল্লেখ করেন তিনি।সভায় গণপরিবহন ও বিআরটিএ কার্যালয়গুলোকে পুরোপুরি তামাকমুক্ত রাখতে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে গণপরিবহন ও সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে ধূমপান নিষেধের চিহ্ন স্থাপন, নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সম্পর্কে প্রচার বাড়ানো।[BANGVIEWS-POST:5513]বক্তারা বলেন, গণপরিবহনে ধূমপান বন্ধে আইনে নির্ধারিত জরিমানার বিধান কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও চালকদের তামাকের ক্ষতিকর দিক এবং আইন সম্পর্কে আরও সচেতন করা প্রয়োজন।সভায় আরও বলা হয়, বাসের টিকিটে ধূমপানবিরোধী বার্তা যুক্ত করা এবং বিআরটিএর ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে প্রচার চালানো যেতে পারে।
অনুষ্ঠানে সিটিএফকের দক্ষিণ এশিয়া ও জর্ডানের আঞ্চলিক পরিচালক ড. মাহিন মালিক, ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সহ-সভাপতি ড. এসএম খলিলুর রহমান, বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানসহ বিআরটিএর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।