যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের পর দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ চলতি মাসে সুদের হার বাড়াতে পারে, এমন ধারণা জোরালো হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে পতন দেখা দিয়েছে।
বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত তথ্যের দিকে তাকিয়ে আছেন। এসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই ফেডের ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির দিকনির্দেশনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ২৬ মিনিটে স্পট মার্কেটে সোনার দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৯৪ দশমিক ১২ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দামও ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৩৯ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
স্যাক্সো ব্যাংকের কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি প্রধান ওলে হ্যানসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী কর্মসংস্থান প্রতিবেদন বন্ডের আয় বাড়িয়েছে এবং চলতি মাসে ফেডের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়িয়েছে। এর প্রভাবেই সোনা ও রুপার বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত মার্কিন তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশটির কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশে স্থিতিশীল রয়েছে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহের ফেড নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৬০ শতাংশ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের আগে এই সম্ভাবনা ছিল ৫০ শতাংশ।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। রুপার দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৫ দশমিক ৬৪ ডলারে এবং প্ল্যাটিনামের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮১৩ দশমিক ৩১ ডলারে নেমেছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম সামান্য বেড়ে ১ হাজার ৩৮৯ দশমিক ০৩ ডলারে উঠেছে।
বাংলাদেশের বাজারেও বর্তমানে স্বর্ণের দাম তুলনামূলকভাবে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।