নেপালের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এই ব্রিফিংয়ে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান অংশ নেন।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বন্যার পর এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৪ হাজার ২০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার, অনুসন্ধান ও মরদেহ উদ্ধারের সর্বশেষ পরিস্থিতিও কূটনীতিকদের সামনে তুলে ধরা হয়।
এ সময় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুর্যোগের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ ও ঝুঁকির বড় একটি অংশ নেপালকে বহন করতে হচ্ছে, যদিও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য নেপালের দায় তুলনামূলকভাবে খুবই কম।
শিশির খানাল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নেপাল দাতব্য সহায়তা চাইছে না; বরং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশটির ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসানের জন্য ন্যায্য ক্ষতিপূরণ প্রত্যাশা করছে।
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান নেপালের সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি প্রকাশ করেন। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অভিন্ন দায়িত্বের বিষয়ে নেপালের অবস্থানের প্রতিও বাংলাদেশের সমর্থনের কথা জানান তিনি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, জলবায়ু সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় নেপাল ও বাংলাদেশের মতো ছোট দেশগুলোর জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রধান দূষণকারী দেশগুলোর এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, নেপালের বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। নিহতদের স্মরণে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ, এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাদের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া করার বিষয়টিও তিনি ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে সাম্প্রতিক টেলিফোনে কথোপকথনের বিষয়েও কূটনীতিকদের অবহিত করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ১০ লাখ মার্কিন ডলার দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও তিনি জানান।
মন্তব্যসমূহ