ফ্রান্সে শিক্ষাব্যবস্থার সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া ব্যাপক সহিংসতায় দেশজুড়ে গ্রেপ্তার হওয়া বিক্ষোভকারীর সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৪০০ অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মী মিলিয়ে মোট ৯৯৭ জন আহত হয়েছেন।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী দুই সহস্রাধিক মানুষকে গ্রেপ্তারের প্রাথমিক হিসাব দিয়েছিল। তবে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, হতাহত ও গ্রেপ্তারের এই পরিসংখ্যান এখনো চূড়ান্ত নয়;
শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শ্রেণিকক্ষের সংকট ও শিক্ষক ঘাটতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া আন্দোলন পরবর্তী সময়ে জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী ব্যয়, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি এবং সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থার অবনতির প্রতিবাদে সরকারবিরোধী এক গণবিক্ষোভে রূপ নেয়। এই বিক্ষোভের প্রতি সংহতি জানিয়ে বামপন্থি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সিজিটিসহ দেশটির শীর্ষ শ্রমিক সংগঠনগুলোও রাজপথে নেমে আসে। ফলে রাজধানী প্যারিস, মার্সেই, লিওঁসহ প্রধান শহরগুলোতে শুরু হয় ব্যাপক সংঘর্ষ, যানবাহন ও ব্যারিকেডে অগ্নিসংযোগ এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট।
ফ্রান্সের এই অস্থিরতার প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও। গত সপ্তাহে ইতালির মিলানসহ কয়েকটি শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ব্যাপক সংঘর্ষ বাঁধে। সেখানেও পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, রেস্তোরাঁর আসবাবে আগুন এবং দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বেলজিয়ামেও ফরাসি বিক্ষোভের সমর্থনে আয়োজিত সমাবেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। এ ছাড়া পর্তুগালসহ প্রতিবেশী আরও কয়েকটি দেশে তরুণ ও সাধারণ নাগরিকদের আবাসন ও মূল্যস্ফীতিবিরোধী আন্দোলন দিন দিন তীব্র হচ্ছে।
সূত্র: স্কাই নিউজ
মন্তব্যসমূহ