ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক সোমবার ইস্তাম্বুলে

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক সোমবার ইস্তাম্বুলে
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে গঠিত নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কাঠামোর প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সোমবার (৩১ আগস্ট) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র আওতায় গঠিত কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির এটিই প্রথম বৈঠক।

বৈঠকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলার এবং সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বাইরাকতারওলু অংশ নেবেন। সৌদি আরব ও পাকিস্তানেরও সমপর্যায়ের কূটনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও সামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, তিন দেশের সামরিক সক্ষমতা ও পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনীগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়, যৌথ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা, সামরিক প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনা বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে পারে।

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান গত ৭ আগস্ট মক্কায় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তির মূল নীতি অনুযায়ী, তিন সদস্যের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলাকে অন্য দুই সদস্যের বিরুদ্ধেও হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এর আগে এই ব্যবস্থাকে কারিগরি দিক থেকে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। তবে তিনি একই সঙ্গে বলেছেন, মক্কা চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে তৈরি হয়নি এবং এটি তুরস্কের বিদ্যমান সামরিক জোটগুলোর বিকল্পও নয়।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে নতুন এই প্রতিরক্ষা কাঠামো কার্যক্রম শুরু করছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

চুক্তিতে ভবিষ্যতে নতুন সদস্য যুক্ত হওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। তুরস্কের কর্মকর্তারা এর আগে মিসরসহ আরও কয়েকটি দেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের কথা বলেছেন।

নতুন জোটে পারমাণবিক অস্ত্রধারী পাকিস্তান, ন্যাটোর অন্যতম বড় সামরিক শক্তি তুরস্ক এবং বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরব একসঙ্গে আসায় এর ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও বাড়ছে।

বাংলাদেশও মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। গত ২৫ আগস্ট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, ঢাকা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। তবে সদস্যপদ বা আনুষ্ঠানিক যোগদানের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সোমবারের ইস্তাম্বুল বৈঠকে চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন, তিন দেশের সামরিক কাঠামোর মধ্যে সমন্বয় এবং ভবিষ্যতে জোটের পরিধি সম্প্রসারণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগ : সৌদি আরব তুরস্ক মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক সোমবার ইস্তাম্বুলে

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে গঠিত নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কাঠামোর প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সোমবার (৩১ আগস্ট) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র আওতায় গঠিত কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির এটিই প্রথম বৈঠক।

বৈঠকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলার এবং সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বাইরাকতারওলু অংশ নেবেন। সৌদি আরব ও পাকিস্তানেরও সমপর্যায়ের কূটনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও সামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, তিন দেশের সামরিক সক্ষমতা ও পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনীগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়, যৌথ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা, সামরিক প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনা বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে পারে।

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান গত ৭ আগস্ট মক্কায় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তির মূল নীতি অনুযায়ী, তিন সদস্যের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলাকে অন্য দুই সদস্যের বিরুদ্ধেও হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এর আগে এই ব্যবস্থাকে কারিগরি দিক থেকে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। তবে তিনি একই সঙ্গে বলেছেন, মক্কা চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে তৈরি হয়নি এবং এটি তুরস্কের বিদ্যমান সামরিক জোটগুলোর বিকল্পও নয়।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে নতুন এই প্রতিরক্ষা কাঠামো কার্যক্রম শুরু করছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

চুক্তিতে ভবিষ্যতে নতুন সদস্য যুক্ত হওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। তুরস্কের কর্মকর্তারা এর আগে মিসরসহ আরও কয়েকটি দেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের কথা বলেছেন।

নতুন জোটে পারমাণবিক অস্ত্রধারী পাকিস্তান, ন্যাটোর অন্যতম বড় সামরিক শক্তি তুরস্ক এবং বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরব একসঙ্গে আসায় এর ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও বাড়ছে।

বাংলাদেশও মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। গত ২৫ আগস্ট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, ঢাকা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। তবে সদস্যপদ বা আনুষ্ঠানিক যোগদানের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সোমবারের ইস্তাম্বুল বৈঠকে চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন, তিন দেশের সামরিক কাঠামোর মধ্যে সমন্বয় এবং ভবিষ্যতে জোটের পরিধি সম্প্রসারণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ