ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

লালদিয়া টার্মিনাল দেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলবে: অর্থমন্ত্রী

লালদিয়া টার্মিনাল দেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলবে: অর্থমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো এবং দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে গতি আনতে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রোববার (৩০ আগস্ট) চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা এলাকায় লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালস। প্রকল্পটিতে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। নির্মাণ শেষে প্রতিষ্ঠানটি ৩০ বছর টার্মিনাল পরিচালনা করবে। প্রয়োজন হলে চুক্তির মেয়াদ আরও ১৫ বছর বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

আমির খসরু বলেন, দেশের লজিস্টিকস ব্যবস্থা, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য লালদিয়া টার্মিনাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, এই টার্মিনাল সেই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, শুধু সরকারি বিনিয়োগ দিয়ে বড় অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো ছাড়া অর্থনীতিকে দ্রুত সম্প্রসারণ করা কঠিন। লালদিয়া টার্মিনাল সেই বিনিয়োগ অংশীদারত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

চট্টগ্রামের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, লালদিয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম অঞ্চলে আরও বন্দর অবকাঠামো, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল এবং নতুন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

চট্টগ্রামকে কার্যকর বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এসব প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। লালদিয়া প্রকল্পের মধ্য দিয়েই এই কার্যক্রম শেষ হচ্ছে না। আরও কয়েকটি বন্দর ও টার্মিনাল প্রকল্পে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ, অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক প্রয়োজন বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এপিএম টার্মিনালসের মতো একটি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক শিপিং খাতে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়াবে।

এপিএম টার্মিনালস লালদিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রমেশ ডেভিড অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি জানান, টার্মিনালটিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব সরঞ্জাম ব্যবহার করা হবে।

প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্মাণকাজ শেষ হলে লালদিয়া টার্মিনাল বছরে প্রায় ৯ লাখ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করতে পারবে।

৬১৩ মিটার দীর্ঘ জেটিতে ১০ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের এবং সর্বোচ্চ ৬ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার বড় কনটেইনার জাহাজ ভিড়তে পারবে। সেখানে ২৪ ঘণ্টা জাহাজ চলাচলের সুবিধাও থাকবে।

টার্মিনালে সাতটি শিপ-টু-শোর গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৩২টি বৈদ্যুতিক রাবার-টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন এবং ৪১টি বৈদ্যুতিক টার্মিনাল ট্র্যাক্টর ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে এপিএম টার্মিনালসের কাছ থেকে এককালীন ২৫ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে। এ ছাড়া প্রতি বছর আড়াই লাখ ডলার কনসেশন ফি পাবে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

টার্মিনালে পরিচালিত প্রতি কনটেইনারের বিপরীতে আরও ২৩ ডলার করে পাবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি বড় জাহাজ সরাসরি ভিড়তে পারবে। এতে আঞ্চলিক ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের ওপর নির্ভরতা এবং আমদানি-রপ্তানি পণ্যের পরিবহন সময় ও খরচ কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগ : অর্থমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দর

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


লালদিয়া টার্মিনাল দেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলবে: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো এবং দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে গতি আনতে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রোববার (৩০ আগস্ট) চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা এলাকায় লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালস। প্রকল্পটিতে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। নির্মাণ শেষে প্রতিষ্ঠানটি ৩০ বছর টার্মিনাল পরিচালনা করবে। প্রয়োজন হলে চুক্তির মেয়াদ আরও ১৫ বছর বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

আমির খসরু বলেন, দেশের লজিস্টিকস ব্যবস্থা, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য লালদিয়া টার্মিনাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, এই টার্মিনাল সেই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, শুধু সরকারি বিনিয়োগ দিয়ে বড় অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো ছাড়া অর্থনীতিকে দ্রুত সম্প্রসারণ করা কঠিন। লালদিয়া টার্মিনাল সেই বিনিয়োগ অংশীদারত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

চট্টগ্রামের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, লালদিয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম অঞ্চলে আরও বন্দর অবকাঠামো, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল এবং নতুন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

চট্টগ্রামকে কার্যকর বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এসব প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। লালদিয়া প্রকল্পের মধ্য দিয়েই এই কার্যক্রম শেষ হচ্ছে না। আরও কয়েকটি বন্দর ও টার্মিনাল প্রকল্পে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ, অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক প্রয়োজন বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এপিএম টার্মিনালসের মতো একটি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক শিপিং খাতে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়াবে।

এপিএম টার্মিনালস লালদিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রমেশ ডেভিড অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি জানান, টার্মিনালটিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব সরঞ্জাম ব্যবহার করা হবে।

প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্মাণকাজ শেষ হলে লালদিয়া টার্মিনাল বছরে প্রায় ৯ লাখ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করতে পারবে।

৬১৩ মিটার দীর্ঘ জেটিতে ১০ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের এবং সর্বোচ্চ ৬ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার বড় কনটেইনার জাহাজ ভিড়তে পারবে। সেখানে ২৪ ঘণ্টা জাহাজ চলাচলের সুবিধাও থাকবে।

টার্মিনালে সাতটি শিপ-টু-শোর গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৩২টি বৈদ্যুতিক রাবার-টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন এবং ৪১টি বৈদ্যুতিক টার্মিনাল ট্র্যাক্টর ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে এপিএম টার্মিনালসের কাছ থেকে এককালীন ২৫ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে। এ ছাড়া প্রতি বছর আড়াই লাখ ডলার কনসেশন ফি পাবে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

টার্মিনালে পরিচালিত প্রতি কনটেইনারের বিপরীতে আরও ২৩ ডলার করে পাবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি বড় জাহাজ সরাসরি ভিড়তে পারবে। এতে আঞ্চলিক ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের ওপর নির্ভরতা এবং আমদানি-রপ্তানি পণ্যের পরিবহন সময় ও খরচ কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ