ইরান মুসলিম দেশগুলোর, বিশেষ করে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত ‘অবৈধ হামলা’ মোকাবিলায় তেহরানের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ৪০তম আন্তর্জাতিক ইসলামিক ইউনিটি কনফারেন্সে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন আরাগচি। এ সময় মিসর ও লেবাননের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন তিনি।
মিসরের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে আরাগচি বলেন, কায়রো প্রস্তুত হলে তেহরানও সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি জানান, ইরান মিসরের সঙ্গে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং দেশটির পক্ষ থেকে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের সিদ্ধান্ত এলে ইরানও ইতিবাচকভাবে সাড়া দেবে।
লেবাননের বিষয়ে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশটির সরকার ও সব রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে তেহরান প্রস্তুত। তবে লেবাননের কিছু নীতির সমালোচনা করে তিনি দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরও বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। কোন কোন বিষয়ে এমন অবস্থান প্রয়োজন, তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি তিনি।
আরব দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি নিয়েও বক্তব্য দেন আরাগচি। তার দাবি, ইরান কখনো প্রতিবেশী বা মুসলিম কোনো দেশের ভূখণ্ডে হামলা চালায়নি। বরং এসব দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
আরাগচির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরান ও আরব দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
মন্তব্যসমূহ