মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান বলেছেন, বর্তমান সরকার গুম, খুন, অত্যাচার ও নির্যাতনমুক্ত একটি দেশ গড়তে কাজ করছে। ভবিষ্যতে দেশে গুম, অত্যাচার ও নির্যাতনের মতো ঘটনার কোনো স্থান থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৯ আগস্ট) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আহমেদ আজম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এমন একটি সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে, যেখানে মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে।
তিনি বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে গুম, খুন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। বর্তমান সরকার একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।
মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও গুম ও খুনের বিরুদ্ধে বিদেশে থেকে আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। তিনি নিজেও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ওপরও নির্যাতন হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আগামীকাল বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার এবং কোনো ধরনের গুম, খুন বা নির্যাতনে বিশ্বাস করে না।
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে দেশে গুম প্রতিরোধ দিবস পালনের পরিবেশ ছিল না। বর্তমানে গণতান্ত্রিক পরিবেশে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, দেশের মানুষকে বার্তা দিতে চাই, গুমের ভয়াবহ অধ্যায় শেষ হয়েছে। সরকার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে।
তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো ঘটনা ভবিষ্যতে আর ঘটতে দেওয়া হবে না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা রয়েছে।
ইশরাক হোসেন বলেন, অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর বিচার হবে এবং সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, বিগত দেড় দশকের আন্দোলনে বিএনপি ও অন্যান্য অনেক ব্যক্তি গুমের শিকার হয়েছেন। দেশে যাতে আর কখনো গুম, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওই সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্ত শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
মন্তব্যসমূহ