ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ভবিষ্যৎ যুদ্ধের জন্য ‘চমক’ প্রস্তুত, দাবি ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের

ভবিষ্যৎ যুদ্ধের জন্য ‘চমক’ প্রস্তুত, দাবি ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

ভবিষ্যতে সম্ভাব্য যেকোনো যুদ্ধ মোকাবিলায় নতুন অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সক্ষমতা প্রস্তুত করেছে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়ি-নিক এ দাবি করেছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ সংঘাতে ইরানের প্রস্তুত করা নতুন সক্ষমতা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে প্রকাশ পাবে। তবে এসব প্রযুক্তি বা অস্ত্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি। খবর মেহের নিউজ এজেন্সির।

রেজা তালায়ি-নিক বলেন, গত দুই বছরে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকার দুটি যুদ্ধ, বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকি এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।

তার দাবি, ব্যাপক হামলা ও প্রতিপক্ষের শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতার মধ্যেও ইরান তার সামরিক বাহিনী, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করেছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতগুলো ক্ষয়ক্ষতি তৈরি করলেও তা ইরানের প্রতিরক্ষা, বিজ্ঞান ও শিল্প খাতে নতুন অগ্রগতির সুযোগ তৈরি করেছে।

তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর আগেই ইরান অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের কৌশলগত মজুত গড়ে তুলেছিল। পাশাপাশি প্রায় ৯ হাজার ৩০০টি জ্ঞানভিত্তিক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতিরক্ষা উৎপাদনে সহযোগিতা করছে।

রেজা তালায়ি-নিকের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় প্রতিরক্ষা শিল্পের বড় একটি অংশ পরিচালিত হচ্ছে এবং কিছু সামরিক সরঞ্জামের উৎপাদন কয়েকগুণ বেড়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের অস্ত্র উৎপাদন দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তিতে ইরান অগ্রগতি অর্জন করছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইরান এক হাজারের বেশি ধরনের অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ উৎপাদন করে এবং প্রতিরক্ষা খাতে দেশটির স্বনির্ভরতার হার ৯০ শতাংশের বেশি।

রেজা তালায়ি-নিক বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের সবচেয়ে বড় সক্ষমতা ছিল প্রতিরোধ ক্ষমতা। প্রতিপক্ষ ধারণা করেছিল, যুদ্ধের শুরুতেই দেশটির সামরিক ও সামাজিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়বে, কিন্তু তা হয়নি।

তিনি জানান, সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।

তবে ইরানের এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।

রেজা তালায়ি-নিক বলেন, অস্ত্র, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সক্ষমতায় আরও কিছু নতুন প্রস্তুতি রয়েছে, যা সময় এলে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রকাশ পাবে।

সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি

ট্যাগ : ইরান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সামরিক প্রযুক্তি

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


ভবিষ্যৎ যুদ্ধের জন্য ‘চমক’ প্রস্তুত, দাবি ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভবিষ্যতে সম্ভাব্য যেকোনো যুদ্ধ মোকাবিলায় নতুন অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সক্ষমতা প্রস্তুত করেছে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়ি-নিক এ দাবি করেছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ সংঘাতে ইরানের প্রস্তুত করা নতুন সক্ষমতা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে প্রকাশ পাবে। তবে এসব প্রযুক্তি বা অস্ত্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি। খবর মেহের নিউজ এজেন্সির।

রেজা তালায়ি-নিক বলেন, গত দুই বছরে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকার দুটি যুদ্ধ, বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকি এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।

তার দাবি, ব্যাপক হামলা ও প্রতিপক্ষের শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতার মধ্যেও ইরান তার সামরিক বাহিনী, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করেছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতগুলো ক্ষয়ক্ষতি তৈরি করলেও তা ইরানের প্রতিরক্ষা, বিজ্ঞান ও শিল্প খাতে নতুন অগ্রগতির সুযোগ তৈরি করেছে।

তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর আগেই ইরান অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের কৌশলগত মজুত গড়ে তুলেছিল। পাশাপাশি প্রায় ৯ হাজার ৩০০টি জ্ঞানভিত্তিক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতিরক্ষা উৎপাদনে সহযোগিতা করছে।

রেজা তালায়ি-নিকের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় প্রতিরক্ষা শিল্পের বড় একটি অংশ পরিচালিত হচ্ছে এবং কিছু সামরিক সরঞ্জামের উৎপাদন কয়েকগুণ বেড়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের অস্ত্র উৎপাদন দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তিতে ইরান অগ্রগতি অর্জন করছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইরান এক হাজারের বেশি ধরনের অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ উৎপাদন করে এবং প্রতিরক্ষা খাতে দেশটির স্বনির্ভরতার হার ৯০ শতাংশের বেশি।

রেজা তালায়ি-নিক বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের সবচেয়ে বড় সক্ষমতা ছিল প্রতিরোধ ক্ষমতা। প্রতিপক্ষ ধারণা করেছিল, যুদ্ধের শুরুতেই দেশটির সামরিক ও সামাজিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়বে, কিন্তু তা হয়নি।

তিনি জানান, সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।

তবে ইরানের এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।

রেজা তালায়ি-নিক বলেন, অস্ত্র, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সক্ষমতায় আরও কিছু নতুন প্রস্তুতি রয়েছে, যা সময় এলে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রকাশ পাবে।

সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ