ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ৫৪৭ মরদেহ উদ্ধার

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ৫৪৭ মরদেহ উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দুর্গত বিভিন্ন এলাকা থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করছেন উদ্ধারকর্মীরা। সর্বশেষ হিসাবে বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলো থেকে ৫৪৭টি মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে নেপাল পুলিশ। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ হাজার ৪৭৩ জন।

এর আগে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা ৫৩৮টি মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছিল। ফলে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার দেওয়া পরিসংখ্যানে মৃতের সংখ্যায় কিছুটা পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

দুর্গত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন ৪ হাজার ৪৭৩ জন পুলিশ সদস্য। তাদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।

জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এখনো ৯৭৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক বলে জানানো হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপাল পুলিশ ও জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা থেকে হতাহতের যে পরিসংখ্যান দেওয়া হচ্ছে, তার মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

গত বুধবার সকালে রাসুয়া অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। প্রবল বর্ষণের কারণে ত্রিশূলি ও নারায়নি নদীর পানির উচ্চতা দ্রুত বেড়ে যায়। একই সময়ে ভোটেকোশি নদীতেও পানির প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে ভূমিধসের মাটি ও বড় বড় পাথর নেমে এসে পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।

প্রবল স্রোতের কারণে বন্যার পানি ও কাদামাটির ঢল পথে থাকা বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস করে দেয়। বহু ঘরবাড়ি, সেতু, গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি পানির স্রোতে ভেসে গেছে। দুর্গত এলাকাগুলোতে যোগাযোগ ও উদ্ধার কার্যক্রমও এতে ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বন্যার প্রভাব শুধু নেপালেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। পাশের চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতও ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে অন্তত ৩০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

তিব্বতে এর আগে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল চীন। এরপর নতুন করে হতাহতের কোনো বিস্তারিত পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভয়াবহ এই বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে।

দুর্যোগকবলিত এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধান এবং মরদেহ উদ্ধারে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্যরা।

ট্যাগ : নেপাল বন্যা

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ৫৪৭ মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দুর্গত বিভিন্ন এলাকা থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করছেন উদ্ধারকর্মীরা। সর্বশেষ হিসাবে বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলো থেকে ৫৪৭টি মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে নেপাল পুলিশ। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ হাজার ৪৭৩ জন।

এর আগে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা ৫৩৮টি মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছিল। ফলে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার দেওয়া পরিসংখ্যানে মৃতের সংখ্যায় কিছুটা পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

দুর্গত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন ৪ হাজার ৪৭৩ জন পুলিশ সদস্য। তাদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।

জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এখনো ৯৭৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক বলে জানানো হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপাল পুলিশ ও জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা থেকে হতাহতের যে পরিসংখ্যান দেওয়া হচ্ছে, তার মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

গত বুধবার সকালে রাসুয়া অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। প্রবল বর্ষণের কারণে ত্রিশূলি ও নারায়নি নদীর পানির উচ্চতা দ্রুত বেড়ে যায়। একই সময়ে ভোটেকোশি নদীতেও পানির প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে ভূমিধসের মাটি ও বড় বড় পাথর নেমে এসে পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।

প্রবল স্রোতের কারণে বন্যার পানি ও কাদামাটির ঢল পথে থাকা বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস করে দেয়। বহু ঘরবাড়ি, সেতু, গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি পানির স্রোতে ভেসে গেছে। দুর্গত এলাকাগুলোতে যোগাযোগ ও উদ্ধার কার্যক্রমও এতে ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বন্যার প্রভাব শুধু নেপালেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। পাশের চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতও ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে অন্তত ৩০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

তিব্বতে এর আগে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল চীন। এরপর নতুন করে হতাহতের কোনো বিস্তারিত পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভয়াবহ এই বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে।

দুর্যোগকবলিত এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধান এবং মরদেহ উদ্ধারে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্যরা।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ