যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ আরও তীব্র হলে দেশটিতে বিদ্যুৎ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ বন্ধ করার হুমকি দিয়েছেন কানাডার অন্টারিও প্রদেশের সরকারপ্রধান ডগ ফোর্ড। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।
ফোর্ড বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ আরও বাড়লে সব বিকল্পই বিবেচনায় রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ বন্ধ করার মতো পদক্ষেপও রয়েছে। তিনি মনে করেন, কানাডার সক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
কানাডার ওপর নতুন মার্কিন শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর এই হুঁশিয়ারি দেন ফোর্ড। ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ পদক্ষেপে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে সমপরিমাণ মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা।
ফোর্ডের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি কানাডার উৎপাদনশিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করে, তাহলে অটোয়ারও এমন সব অর্থনৈতিক হাতিয়ার ব্যবহার করা উচিত, যার প্রভাব সরাসরি মার্কিন অর্থনীতিতে পড়বে।
বিদ্যুতের পাশাপাশি তেল, পটাশ, ইউরেনিয়াম ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়েও কঠোর পদক্ষেপের কথা বলেছেন ফোর্ড। তিনি এসব পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাবও সামনে এনেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অন্টারিওর বিদ্যুৎ সরবরাহ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক ও মিশিগানসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য কানাডা থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে। ফলে সরবরাহ বন্ধ বা দাম বাড়ানো হলে সীমান্তবর্তী মার্কিন অঙ্গরাজ্যগুলোতে এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
ফোর্ড এর আগেও বিদ্যুৎকে পাল্টা বাণিজ্যিক ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ফলে এবারের হুঁশিয়ারিকে পুরোপুরি প্রতীকী বক্তব্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে এখন পর্যন্ত অন্টারিও নতুন করে বিদ্যুৎ বা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ বন্ধ করেনি। এটি আপাতত সম্ভাব্য পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি।
কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বিশেষ করে গাড়ি, জ্বালানি ও উৎপাদন খাতে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি শুল্ক ও সরবরাহ বন্ধের মতো পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে উভয় দেশের ব্যবসা, শ্রমিক ও ভোক্তাদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস,
মন্তব্যসমূহ